মেয়ের বিয়ের টাকা নিয়ে নিখোঁজ ইসমাইল, এক্সপ্রেসওয়েতে মিলল মরদেহ
- আপডেট সময় : ০৬:৩০:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন (৫০) মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাড় করতে জমি বিক্রির টাকা নিয়ে গাজীপুরের পথে রওনা হয়েছিলেন। শুক্রবার সকালে তার গাজীপুরের জিরানীতে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু গন্তব্যে না পৌঁছানোয় পরিবারের সদস্যরা তার মুঠোফোনে বারবার কল দিয়েও তা বন্ধ পান। এর মধ্যেই পুলিশের মাধ্যমে তারা ইসমাইলের মৃত্যুর মর্মান্তিক খবরটি জানতে পারেন। শুক্রবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশের মুখে ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধার করে বনানী থানা-পুলিশ।
নিহত ইসমাইলের ছেলে মো. হাসান জানান, তার ছোট বোন শারমিনের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করার জন্য বাবা জামালপুর থেকে রওনা দিয়েছিলেন। সাথে ছিল জমি বিক্রির অবশিষ্ট প্রায় পাঁচ লাখ টাকা এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন মুঠোফোন। তবে মরদেহ উদ্ধারের পর এসবের কিছুই পাওয়া যায়নি। ইসমাইল হোসেন আগে গাজীপুরের ডেল্টা স্পিনিং মিলে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং অসুস্থতার কারণে নয় মাস আগে চাকরি ছাড়েন। চার মাস আগে তিনি স্থায়ীভাবে গ্রামে ফিরে গেলেও তার স্ত্রী, মেয়ে, ছেলে ও পুত্রবধূ গাজীপুরেই বসবাস করতেন।
উদ্ধারকৃত মরদেহের মুখে স্কচটেপ লাগানো ছিল এবং পরনে ছিল লুঙ্গি ও নীল রঙের শার্ট, যা অনেকটা সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের ইউনিফর্মের মতো। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে জামালপুর থেকে রওনা হওয়ার আগে রাত ১১টার দিকে পরিবারের সঙ্গে ইসমাইলের সর্বশেষ কথা হয়েছিল বলে জানান তার ছেলে হাসান।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, ইসমাইলকে শ্বাসরোধে হত্যা করে কোনো একটি গাড়ি থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন কয়েকটি গাড়ি শনাক্ত করা হয়েছে। গাড়িগুলো আটক করা গেলে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
হাসান জানান, তাঁর বাবা বোনের বিয়ের খরচ জোগাতে সম্প্রতি ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন।
অসুস্থতার কারণে ৯ মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন।



























