বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী আজ
- আপডেট সময় : ০২:২৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

আজ ৫ সেপ্টেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে তিনি জীবন উৎসর্গ করেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত আজও নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নূর মোহাম্মদ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইলের মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে অভিভাবকহীন হয়ে পড়া নূর মোহাম্মদ সংসার চালানোর প্রয়োজনে ১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) বাহিনীতে যোগ দেন। প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর তিনি দিনাজপুর সেক্টরের কুঠিবাড়ি ক্যাম্পে সৈনিক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধেও তিনি অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। ১৯৭০ সালের আগস্টে তাঁকে ইপিআরের যশোর সেক্টর সদর দপ্তরে বদলি করা হয়।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার সময় নূর মোহাম্মদ ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। দেশের এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে তিনি ছুটি শেষ হওয়ার আগেই কর্মস্থল ৪ নম্বর ইপিআর উইংয়ে ফিরে আসেন। ওই সময় উইংটি ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে যশোর এলাকায় অবস্থান করছিল। আগস্টের শুরুতে ৮ নম্বর সেক্টরের নির্দেশে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল যশোরের চৌগাছা থানার ছুটিপুর গ্রামে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নেয়। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়ায় সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর একাধিক সংঘর্ষ হয়।
১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নূর মোহাম্মদ চার সহযোদ্ধাকে নিয়ে ছুটিপুর প্রতিরক্ষা এলাকার সামনে গোয়ালহাটি গ্রামে টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় পাকিস্তানি বাহিনী তিন দিক থেকে তাঁদের ঘিরে ফেলে গুলিবর্ষণ শুরু করে। সহযোদ্ধা সিপাহি নান্নু মিয়া আহত হলে নূর মোহাম্মদ তাঁর এলএমজি নিয়ে শত্রুর দিকে গুলি চালাতে থাকেন। তিনি সহযোদ্ধাদের বারবার অবস্থান পরিবর্তনের নির্দেশ দেন যাতে শত্রুপক্ষ তাদের সঠিক অবস্থান বুঝতে না পারে। আহত নান্নু মিয়াকে কাঁধে নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরানোর সময় নূর মোহাম্মদের ডান কাঁধে গুলি লাগে এবং ২ ইঞ্চি মর্টার শেলের আঘাতে তাঁর ডান হাঁটু ক্ষতবিক্ষত হয়।
মারাত্মক আহত অবস্থায় তিনি সিপাহি মোস্তফাকে আহত নান্নু মিয়াসহ অন্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন। সহযোদ্ধারা নিরাপদে সরে যাওয়ার পর তিনি একাই এসএলআর দিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে থাকেন। পরে পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে একা পেয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। প্রায় এক ঘণ্টা পর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করে এবং নূর মোহাম্মদের মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁর মরদেহ যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর গ্রামে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করে।


























