বদলির প্রজ্ঞাপন জারির পরদিন সাংবাদিকের বাড়িতে এসিল্যান্ডের তল্লাশি
- আপডেট সময় : ০৮:১০:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭: ০৫
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমানের বিরুদ্ধে এক সিনিয়র সাংবাদিকের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম সাজু দৈনিক মানবজমিনের রৌমারী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। তিনি উপজেলার সবুজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার, যখন ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার উপসচিব নুসরাত জাহান নিসু স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে রাফিউর রহমানের বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর পরদিন বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এসিল্যান্ড রাফিউর রহমান সাংবাদিক রফিকুল ইসলামের বাড়িতে আকস্মিক তল্লাশি চালান।
সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৭ আগস্ট তিনি দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের আমবাড়ি গ্রামের একটি জমির নামজারি করেছিলেন। কিন্তু কোনো নিয়ম না মেনেই ৩১ আগস্ট এসিল্যান্ড ওই নামজারি বাতিল করে দেন। এ বিষয়ে বুধবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে এসিল্যান্ডের কাছে নামজারি বাতিলের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক সাজু। তিনি আরও বলেন, “এরই সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আমার বাড়িতে মাদক মজুদের অভিযোগ তুলে পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।” তবে তল্লাশিতে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রৌমারীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান বলেন, “মাদকের ইনফরমেশন পেয়ে ওই ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি করেছিলাম। কিন্তু কিছু পাওয়া যায়নি। তিনি সাংবাদিক কি না আমি জানি না।” তল্লাশির সময় এসিল্যান্ডের সঙ্গে থাকা রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী বলেন, “এসিল্যান্ড পুলিশ চেয়েছিল, আমি দিয়েছি। আমার এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেই।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাফিউর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ঘুষ না দেওয়ায় জমি খারিজ করে দেওয়া, চেইনম্যানকে দিয়ে ঘুষ বাণিজ্য, সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সাংবাদিকদের অফিস থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা রয়েছে। এছাড়া কৃষকদের তেল পাম্পে স্যালো মেশিন নিয়ে যেতে বাধ্য করা এবং আনসার সদস্যদের সহায়তায় ড্রেজার জব্দ করার সময় ইটপাটকেলের মার খাওয়ার ঘটনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দুপুরের পর অফিস না করে ঘুমিয়ে থাকাসহ নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

























