ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিকাশ, রবিসহ ৪ ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক শাহ আলীতে পলিথিন ব্যাগ থেকে নবজাতক উদ্ধার, ৯৯৯-এ ফোন সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা রাজশাহীতে মাদকাসক্ত ছেলের হাসুয়ার কোপে মা নিহত, বাবা আহত সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত গোবিপ্রবির ৫ শিক্ষার্থী মক্কা-জেদ্দাসহ সৌদির বিভিন্ন এলাকায় সিভিল ডিফেন্সের সতর্কতা জারি আ.লীগ ফিরলে জামায়াত নেতাদের আবারও ফাঁসি দেবে: রাশেদ খাঁন মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা ইসলামের চিরন্তন শিক্ষা এমপি গাজী নজরুল আবারও রিমান্ডে, এবার ৪ দিনের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করে নিপীড়িত হয়েছেন রুহুল আমিন গাজী: রিজভী

কুমিল্লা মেডিকেলে অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার দেখে ক্ষুব্ধ মন্ত্রী, নিজেই পরিষ্কারের ঘোষণা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে শৌচাগারের বেহাল দশা দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। গত মঙ্গলবার হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় যোগদানের আগে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখার সময় তিনি শৌচাগারগুলোর এমন চিত্র দেখতে পান। এ সময় তিনি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. শাহজাহানকে উদ্দেশ্য করে ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘সুইপার আর হারপিকটা নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব।’

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডসহ বেশ কিছু ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হাসপাতালের ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ শৌচাগার ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নিয়মিত পরিষ্কারের দাবি জানালেও মন্ত্রী তা মানতে নারাজ ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আপনি তো ডিরেক্টর হিসেবে জয়েন করছেন। ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর হিসেবে চার মাস দায়িত্ব পালন করেন। এসব বিষয়ে তো আপনার নজর রাখার কথা। কিন্তু আমার কাছে যতটুকু রিপোর্ট আছে, ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বাথরুম আপনাকে আমি নিজে দেখালাম। এগুলোর মধ্যে কোনো বাথরুম ব্যবহার করার উপযোগী নয়। এটার জন্য তো কিছু দরকার নাই, শুধু ক্লিন করলেই রোগীরা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে।’

হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন, রোগীদের কল্যাণ, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার লক্ষ্যে সভায় সাতটি উপকমিটি গঠন করা হয়। এগুলো হলো—পরিচ্ছন্নতা কমিটি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা কমিটি, জরুরি বিভাগ কমিটি, ফার্মেসি নিয়ন্ত্রণ কমিটি, খাদ্য কমিটি, দালাল প্রতিরোধ ও অ্যাম্বুলেন্স শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়মশৃঙ্খলা তদারকি কমিটি। সভায় এসব উপকমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য সদস্যদের বুঝিয়ে দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের আস্থা অর্জন করতে হবে। সরকারি হাসপাতালের ওপর অসহায় ও দরিদ্র মানুষের বড় একটি অংশ নির্ভরশীল। চিকিৎসাসেবা নিতে এসে তাঁরা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হলে এর প্রভাব সরকারের ভাবমূর্তির ওপরও পড়ে।

হাসপাতাল পরিদর্শনের পর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আমিন উর রশিদ বলেন, ‘আপনারা আমাকে একটু সময় দেন। শিগগিরই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে দেশের শীর্ষ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে ইনশা আল্লাহ। ক্রমান্বয়ে হাসপাতালের সব সমস্যা সমাধান করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা যে কমিটিগুলো গঠন করেছি, এর উদ্দেশ্য শুধু দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া নয়। আমরা সবাই মিলে একটি পরিচ্ছন্ন, দালালমুক্ত ও মানবিক হাসপাতাল গড়ে তুলতে চাই। মানুষ যেন সরকারি হাসপাতালে এসে আস্থা ও নিরাপত্তার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা নিতে পারে।’ এ সময় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

কুমিল্লা মেডিকেলে অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার দেখে ক্ষুব্ধ মন্ত্রী, নিজেই পরিষ্কারের ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৭:৫৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে শৌচাগারের বেহাল দশা দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। গত মঙ্গলবার হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় যোগদানের আগে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখার সময় তিনি শৌচাগারগুলোর এমন চিত্র দেখতে পান। এ সময় তিনি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. শাহজাহানকে উদ্দেশ্য করে ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘সুইপার আর হারপিকটা নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব।’

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডসহ বেশ কিছু ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হাসপাতালের ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ শৌচাগার ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নিয়মিত পরিষ্কারের দাবি জানালেও মন্ত্রী তা মানতে নারাজ ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আপনি তো ডিরেক্টর হিসেবে জয়েন করছেন। ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর হিসেবে চার মাস দায়িত্ব পালন করেন। এসব বিষয়ে তো আপনার নজর রাখার কথা। কিন্তু আমার কাছে যতটুকু রিপোর্ট আছে, ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বাথরুম আপনাকে আমি নিজে দেখালাম। এগুলোর মধ্যে কোনো বাথরুম ব্যবহার করার উপযোগী নয়। এটার জন্য তো কিছু দরকার নাই, শুধু ক্লিন করলেই রোগীরা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে।’

হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন, রোগীদের কল্যাণ, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার লক্ষ্যে সভায় সাতটি উপকমিটি গঠন করা হয়। এগুলো হলো—পরিচ্ছন্নতা কমিটি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা কমিটি, জরুরি বিভাগ কমিটি, ফার্মেসি নিয়ন্ত্রণ কমিটি, খাদ্য কমিটি, দালাল প্রতিরোধ ও অ্যাম্বুলেন্স শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়মশৃঙ্খলা তদারকি কমিটি। সভায় এসব উপকমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য সদস্যদের বুঝিয়ে দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের আস্থা অর্জন করতে হবে। সরকারি হাসপাতালের ওপর অসহায় ও দরিদ্র মানুষের বড় একটি অংশ নির্ভরশীল। চিকিৎসাসেবা নিতে এসে তাঁরা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হলে এর প্রভাব সরকারের ভাবমূর্তির ওপরও পড়ে।

হাসপাতাল পরিদর্শনের পর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আমিন উর রশিদ বলেন, ‘আপনারা আমাকে একটু সময় দেন। শিগগিরই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে দেশের শীর্ষ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে ইনশা আল্লাহ। ক্রমান্বয়ে হাসপাতালের সব সমস্যা সমাধান করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা যে কমিটিগুলো গঠন করেছি, এর উদ্দেশ্য শুধু দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া নয়। আমরা সবাই মিলে একটি পরিচ্ছন্ন, দালালমুক্ত ও মানবিক হাসপাতাল গড়ে তুলতে চাই। মানুষ যেন সরকারি হাসপাতালে এসে আস্থা ও নিরাপত্তার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা নিতে পারে।’ এ সময় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo