ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-জেদ্দাসহ সৌদির বিভিন্ন এলাকায় সিভিল ডিফেন্সের সতর্কতা জারি আ.লীগ ফিরলে জামায়াত নেতাদের আবারও ফাঁসি দেবে: রাশেদ খাঁন মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা ইসলামের চিরন্তন শিক্ষা এমপি গাজী নজরুল আবারও রিমান্ডে, এবার ৪ দিনের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করে নিপীড়িত হয়েছেন রুহুল আমিন গাজী: রিজভী তুরস্কের শানলিউরফায় ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত ইসলামাবাদে পিটিআইয়ের মিছিল ঘিরে দেশজুড়ে ধরপাকড় ও কড়াকড়ি ৫১তম বিসিএসে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, আবেদন শুরু ১ অক্টোবর জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা: নিহত ৪, পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

নেপালের বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:২৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নেপালের ভোতেকোশি নদীতে গত ২৬ আগস্টের আকস্মিক বন্যায় বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ব্যাপক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপুল প্রাণহানির পাশাপাশি নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অবকাঠামো মারাত্মক সংকটে পড়েছে। গত বুধবার কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাধারণত বর্ষাকালে নেপালের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বাড়লে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা থেকে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ রপ্তানি করা হয়। তবে এবারের বন্যায় উৎপাদন সক্ষমতা কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। বিকল্প একটি প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমতির জন্য ভারতের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ), ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসার কথা। চিলিমে প্রকল্প থেকে ২১ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং ত্রিশূলী প্রকল্প থেকে ১৮ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন ছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেএসসি বৈঠকে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ও নেপাল নীতিগতভাবে সম্মত হলেও ভারতীয় সঞ্চালন লাইন ব্যবহারের অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি।

বন্যায় শুধু বাংলাদেশে সরবরাহকারী প্রকল্পগুলো নয়, নেপালের মোট ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভোতেকোশি নদীতে আসা এই আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়, যা পরে ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে। দ্য হিন্দু’র তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২৫০ জনে পৌঁছেছে এবং এখনো ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং অন্য প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ পাঠানোর জন্য ভারতের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে বন্যার কারণে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানিও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটি বাংলাদেশ ও ভারতে ২ হাজার ৯৩২ কোটি নেপালি রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করে। একই সময়ে শুষ্ক মৌসুমে ভারত থেকে ১ হাজার ২৩ কোটি রুপির বিদ্যুৎ আমদানি করলেও নিট বিদ্যুৎ বাণিজ্যে নেপালের উদ্বৃত্ত ছিল ১ হাজার ৯০৯ কোটি রুপি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপালের বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ

আপডেট সময় : ০৯:২৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালের ভোতেকোশি নদীতে গত ২৬ আগস্টের আকস্মিক বন্যায় বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ব্যাপক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপুল প্রাণহানির পাশাপাশি নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অবকাঠামো মারাত্মক সংকটে পড়েছে। গত বুধবার কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাধারণত বর্ষাকালে নেপালের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বাড়লে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা থেকে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ রপ্তানি করা হয়। তবে এবারের বন্যায় উৎপাদন সক্ষমতা কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। বিকল্প একটি প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমতির জন্য ভারতের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ), ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসার কথা। চিলিমে প্রকল্প থেকে ২১ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং ত্রিশূলী প্রকল্প থেকে ১৮ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন ছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেএসসি বৈঠকে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ও নেপাল নীতিগতভাবে সম্মত হলেও ভারতীয় সঞ্চালন লাইন ব্যবহারের অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি।

বন্যায় শুধু বাংলাদেশে সরবরাহকারী প্রকল্পগুলো নয়, নেপালের মোট ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভোতেকোশি নদীতে আসা এই আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়, যা পরে ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে। দ্য হিন্দু’র তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২৫০ জনে পৌঁছেছে এবং এখনো ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং অন্য প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ পাঠানোর জন্য ভারতের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে বন্যার কারণে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানিও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটি বাংলাদেশ ও ভারতে ২ হাজার ৯৩২ কোটি নেপালি রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করে। একই সময়ে শুষ্ক মৌসুমে ভারত থেকে ১ হাজার ২৩ কোটি রুপির বিদ্যুৎ আমদানি করলেও নিট বিদ্যুৎ বাণিজ্যে নেপালের উদ্বৃত্ত ছিল ১ হাজার ৯০৯ কোটি রুপি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin