নাব্যতা সংকটে মাঝনদীতে আটকা সন্দ্বীপগামী ফেরি কপোতাক্ষ
- আপডেট সময় : ০৩:৩৬:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ৩০। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে টানা চার দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার সন্ধ্যায় সচল হয় সন্দ্বীপ-কুমিরা রুটের ফেরি সার্ভিস। কিন্তু পুনরায় যাত্রা শুরুর পরপরই ফেরি 'কপোতাক্ষ' নাব্যতা সংকট ও পলির কারণে মাঝনদীতে আটকা পড়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট ছাড়ার পরপরই চ্যানেলের মুখে ফেরিটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
আটকা পড়া ফেরিটিতে দুটি যাত্রীবাহী বাস, সাতটি ছোট-বড় ট্রাক এবং একাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে। যাত্রীসংখ্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও যাত্রীদের তথ্যে অমিল রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি ফেরিতে প্রায় ১০০ জন যাত্রী রয়েছেন, তবে আটকে পড়া যাত্রীদের ভাষ্যমতে এই সংখ্যা কমপক্ষে ৩৫০ জন। চারদিকে কাদাপানি ও সাগরের অথৈ অন্ধকার থাকায় ফেরি থেকে নামারও কোনো উপায় নেই। ফলে মাঝপথে আটকা পড়ে সুপেয় পানি ও খাবার সংকটে পড়েছেন যাত্রীরা। সেই সুযোগে ফেরির ক্যান্টিনে থাকা সীমিত খাবারের জন্য অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী যাত্রী জারিফ (২০) জানান, মা ও মামাকে নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন এবং ক্যান্টিনে ১৯ টাকার চানাচুর ৩০ টাকায় কিনতে হয়েছে। ফারুক ও নাহিদসহ অনেক যাত্রীই মাঝনদীতে চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপপরিচালক ও পোর্ট অফিসার নয়ন শীল এই ঘটনার জন্য মাস্টারের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ার-ভাটার নির্ধারিত সময়সূচি না মেনে ফেরি চালানোই এই বিপত্তির মূল কারণ। অন্যদিকে, ফেরির মাস্টার সাইফুল ইসলাম এবং বিআইডব্লিউটিসি-এর ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) প্রফুল্ল চৌহান রাতের জোয়ারের পানিতে ফেরিটি ভেসে ওঠার আশা প্রকাশ করেছেন। জোয়ারে কাজ না হলে টাগবোট দিয়ে ফেরিটি উদ্ধারের বিকল্প উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর একই স্থানে ফেরি কপোতাক্ষ আটকা পড়েছিল। সেবার দীর্ঘ ২৫ ঘণ্টা পর ১৫ অক্টোবর সকালে তিনটি টাগবোটের সাহায্যে ফেরিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।

























