ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-জেদ্দাসহ সৌদির বিভিন্ন এলাকায় সিভিল ডিফেন্সের সতর্কতা জারি আ.লীগ ফিরলে জামায়াত নেতাদের আবারও ফাঁসি দেবে: রাশেদ খাঁন মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা ইসলামের চিরন্তন শিক্ষা এমপি গাজী নজরুল আবারও রিমান্ডে, এবার ৪ দিনের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করে নিপীড়িত হয়েছেন রুহুল আমিন গাজী: রিজভী তুরস্কের শানলিউরফায় ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত ইসলামাবাদে পিটিআইয়ের মিছিল ঘিরে দেশজুড়ে ধরপাকড় ও কড়াকড়ি ৫১তম বিসিএসে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, আবেদন শুরু ১ অক্টোবর জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা: নিহত ৪, পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

৫৩ বছরে সরকারি বেতন কাঠামোয় নয়টি পরিবর্তন, কোথায় পৌঁছাল মূল বেতন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৫১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়, যার নাম ছিল ‘ন্যাশনাল স্কেলস অব পে-১৯৭৩’। সেই সময় সরকারি চাকরিতে ১০টি গ্রেড ছিল, তবে ওপরের চারটি গ্রেডের বেতন বাস্তবায়ন করা হয়নি। তৎকালীন সর্বনিম্ন গ্রেডে চাকরির শুরুতে মূল বেতন ছিল ১৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ছিল ২ হাজার টাকা। দীর্ঘ ৫৩ বছরের ব্যবধানে সেই বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত সোমবার সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে, যা গত জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।

নতুন এই বেতনকাঠামোর আওতায় সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন অর্থাৎ ২০তম গ্রেডে চাকরির শুরুতে মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ১৯৭৩ সালের ১৩০ টাকার তুলনায় সর্বনিম্ন মূল বেতন প্রায় ১৫৪ গুণ বেড়েছে। একইভাবে, ১৯৭৩ সালের ২ হাজার টাকার সর্বোচ্চ মূল বেতন ২০২৬ সালে ৭৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। নতুন কাঠামোয় গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। এই বেতনকাঠামো মূল বেতন ও ভাতাসহ মোট চার ধাপে বাস্তবায়িত হবে।

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৭৭ সালে ২১টি গ্রেড নিয়ে নতুন বেতন স্কেল করা হয়, যেখানে সর্বনিম্ন শুরুর বেতন ২২৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ১৯৮৫ সালের বেতন স্কেলে ২০টি গ্রেড প্রবর্তন করা হয়, যেখানে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা বেতন নির্ধারিত ছিল। ১৯৯১ সালের বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন ৯০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা মূল বেতন ছিল। ১৯৯৭ সালের জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকায় উন্নীত হয়।

পরবর্তী সময়ে ২০০৫ সালের ষষ্ঠ বেতনকাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ২০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়। ২০০৯ সালের বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন ৪ হাজার ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের বেতনকাঠামোয় ২০তম গ্রেডে শুরুর বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

নতুন বেতনকাঠামোয় মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতার ব্যবস্থাও রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীরা গ্রেড ও এলাকাভেদে বাড়িভাড়া পান এবং সবার জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া সন্তানের শিক্ষাসহায়ক ভাতা, উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে টিএ বা ডিএ সুবিধা বহাল আছে। নতুন কাঠামোয় সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মুঠোফোনের ভাতাও যুক্ত করা হয়েছে, যা বেতন গ্রেড অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

ইনক্রিমেন্ট পেয়ে তা ৩১৫ টাকা পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ ছিল।

ইনক্রিমেন্ট পেয়ে তা ৮৬০ টাকা পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ ছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

৫৩ বছরে সরকারি বেতন কাঠামোয় নয়টি পরিবর্তন, কোথায় পৌঁছাল মূল বেতন

আপডেট সময় : ০৬:৫১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়, যার নাম ছিল ‘ন্যাশনাল স্কেলস অব পে-১৯৭৩’। সেই সময় সরকারি চাকরিতে ১০টি গ্রেড ছিল, তবে ওপরের চারটি গ্রেডের বেতন বাস্তবায়ন করা হয়নি। তৎকালীন সর্বনিম্ন গ্রেডে চাকরির শুরুতে মূল বেতন ছিল ১৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ছিল ২ হাজার টাকা। দীর্ঘ ৫৩ বছরের ব্যবধানে সেই বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত সোমবার সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে, যা গত জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।

নতুন এই বেতনকাঠামোর আওতায় সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন অর্থাৎ ২০তম গ্রেডে চাকরির শুরুতে মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ১৯৭৩ সালের ১৩০ টাকার তুলনায় সর্বনিম্ন মূল বেতন প্রায় ১৫৪ গুণ বেড়েছে। একইভাবে, ১৯৭৩ সালের ২ হাজার টাকার সর্বোচ্চ মূল বেতন ২০২৬ সালে ৭৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। নতুন কাঠামোয় গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। এই বেতনকাঠামো মূল বেতন ও ভাতাসহ মোট চার ধাপে বাস্তবায়িত হবে।

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৭৭ সালে ২১টি গ্রেড নিয়ে নতুন বেতন স্কেল করা হয়, যেখানে সর্বনিম্ন শুরুর বেতন ২২৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ১৯৮৫ সালের বেতন স্কেলে ২০টি গ্রেড প্রবর্তন করা হয়, যেখানে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা বেতন নির্ধারিত ছিল। ১৯৯১ সালের বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন ৯০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা মূল বেতন ছিল। ১৯৯৭ সালের জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকায় উন্নীত হয়।

পরবর্তী সময়ে ২০০৫ সালের ষষ্ঠ বেতনকাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ২০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়। ২০০৯ সালের বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন ৪ হাজার ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের বেতনকাঠামোয় ২০তম গ্রেডে শুরুর বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

নতুন বেতনকাঠামোয় মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতার ব্যবস্থাও রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীরা গ্রেড ও এলাকাভেদে বাড়িভাড়া পান এবং সবার জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া সন্তানের শিক্ষাসহায়ক ভাতা, উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে টিএ বা ডিএ সুবিধা বহাল আছে। নতুন কাঠামোয় সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মুঠোফোনের ভাতাও যুক্ত করা হয়েছে, যা বেতন গ্রেড অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

ইনক্রিমেন্ট পেয়ে তা ৩১৫ টাকা পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ ছিল।

ইনক্রিমেন্ট পেয়ে তা ৮৬০ টাকা পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ ছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo