জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছিলেন যুবলীগ নেতা: বিএনপি সভাপতি
- আপডেট সময় : ০৫:১৪:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপিকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলামের ভূমিকা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর। গত মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
ভিডিওতে মানিক সওদাগরকে বলতে শোনা যায়, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট আমলে বকশীগঞ্জের সাতটি ইউনিয়নের বিএনপিকে বুকে নিয়ে ধারণ করেছিলেন নজরুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, তৎকালীন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের পরামর্শেই নজরুল ইসলাম আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিলেন। মানিক সওদাগর নজরুল ইসলামের বড় ভাই। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং তাঁকে তিনটি হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি এই ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোরভাবে মোকাবিলা করার হুঁশিয়ারিও দেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নজরুল ইসলাম একসময় উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৫ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের মাধ্যমে তিনি যুবলীগে যোগ দেন এবং ২০১৬ সালে পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক হন। ২০১৯ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এরপর থেকেই তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বকশীগঞ্জ থানায় একটি পুলিশ মামলাসহ মোট চারটি মামলা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ মামলার আসামি আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা হলেও নজরুল ইসলামকে আসামি করা হয়নি। এছাড়া গত ১২ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তারের পর সাত মাস কারাভোগ করে তিনি বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন এবং এলাকাতেই অবস্থান করছেন।
মানিক সওদাগর প্রথম আলোকে বলেন, নজরুল ইসলাম তাদের দলেরই লোক। তৎকালীন পরিস্থিতিতে মিল্লাত ভাইয়ের পরামর্শে তিনি আওয়ামী লীগে গিয়েছিলেন, তবে ২০১৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচনের সময় যুবলীগ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। নজরুল ইসলাম বর্তমানে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেননি বলে তিনি জানান।
বেশির ভাগ নেতা-কর্মী পলাতক থাকলেও নজরুল এলাকাতেই থাকতেন।.২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলার খয়ের উদ্দিন মাদ্রাসা মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে কয়েকজন সহযোগীসহ নজরুল ইসলাম উপস্থিত হন।

























