অটোরিকশার ধাক্কায় আহত স্কুলছাত্রী, ক্ষুব্ধ পুলিশ কর্মকর্তার প্রশ্ন
- আপডেট সময় : ০৮:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম নগরের খুলশিতে দ্রুতগতির একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় তৃতীয় শ্রেণিপড়ুয়া এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। সোমবার বেলা দেড়টার দিকে খুলশি জালালাবাদ সোসাইটির ৩ নম্বর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শিশু নাওয়াল আনসারীর বাবা আনসারুল করিম চট্টগ্রাম নগর পুলিশের গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগে কর্মরত। তিনি আগে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিশুর বাবা জানান, সকালে তিনি নিজেই মেয়েকে স্কুলে দিয়ে এসেছিলেন। ক্লাস শেষে বেলা দেড়টার দিকে মেয়েটি যখন বাসার মেইন গেটের সামনে ট্যাক্সি থেকে নামে, ঠিক তখনই একটি অবৈধ ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন অটোরিকশা বেপরোয়া গতিতে এসে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে শিশুটি ছিটকে রাস্তায় পড়ে গিয়ে মাথা, কপাল, ঠোঁট, মুখমণ্ডল ও দুই হাতে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে প্রথমে জিইসি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর আনসারুল করিম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে লিখেছেন, 'সরকারি চাকরি করে নিজের অবুঝ সন্তানের নিরাপত্তা যেখানে আমরা নিশ্চিত করতে পারি না, সেখানে আমরা কীভাবে অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব, এটাই আমার প্রশ্ন।'
আনসারুল করিম অভিযোগ করেন, অটোরিকশাগুলোর কোনো নির্দিষ্ট গতিসীমা নেই এবং চালকেরা অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে এগুলো চালায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন এসব অবৈধ অটোরিকশার কাছে দেশের মানুষ কত দিন জিম্মি থাকবে। বড় ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হলেও অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি সিটি করপোরেশনের কাছে এই যান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অটোরিকশা জব্দ করা হলে তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা উচিত।
চট্টগ্রাম নগরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে দুর্ঘটনা নতুন নয়। গত বছর নগরে এসব যানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলেও এবং মহাসড়কে নিষিদ্ধ করা হলেও নগরের অলিগলিতে এদের চলাচল কমেনি। সন্ধ্যার পর চকবাজার, ডিসি রোড ও বাকলিয়া এক্সেস রোডের মতো মূল সড়কেও এসব অটোরিকশা চলতে দেখা যায়, যা তাদের নিয়ন্ত্রণ ও নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
এ নিয়ে গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আনসারুল করিম লিখেন, ‘সকাল আটটায় আমি নিজেই আমার আদরের মেয়েটিকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে আসলাম।



























