ঢাকা ০৯:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারবিরোধী চক্রান্তের মামলায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে আহসান মঞ্জিলের ৫ সিন্দুক: ৩টির রহস্য এখনো অমীমাংসিত ডেঙ্গুতে শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু, মোট আক্রান্ত ছাড়াল এক লাখ সৌদি আরবে ফ্লাইট বিধিনিষেধ: ঢাকা থেকে ৫১ ফ্লাইট স্থগিত সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকতে বলেছে রিয়াদ দূতাবাস লোহাগাড়ায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও উৎসবের প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় এইচএসসির ফল প্রকাশ ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নারী পাবেন ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা এপিএল ড্রাফটে নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশের আট ক্রিকেটার গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের

স্বামীর বুকে ছিল দুটি গুলি, ট্রাইব্যুনালে জাসাস নেতার স্ত্রীর জবানবন্দি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:১০:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক দশক আগে ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত জাসাস নেতা কবির মোল্লার স্ত্রী আকলিমা বেগম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির হয়ে তিনি এই সাক্ষ্য দেন। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে উঠানে তাঁর গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।

এই মামলাটি মূলত ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ারে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা হয়। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হিসেবে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে, যেখানে আকলিমা বেগম ১৪তম সাক্ষী হিসেবে নিজের জবানবন্দি দিলেন।

জবানবন্দিতে আকলিমা বেগম ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় তাঁর স্বামীর খোঁজ করেছিলেন, কিন্তু কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি টেলিভিশনের সংবাদে তিনি জানতে পারেন যে, টিপু হাওলাদার ও তাঁর স্বামী কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। এই খবর পাওয়ার পরপরই তিনি তাঁর সন্তান ও দেবরকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।

গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর সেখানকার পরিস্থিতি তুলে ধরে আকলিমা বলেন, বাড়ির উঠানেই তাঁর স্বামীর মরদেহ পড়ে ছিল। আত্মীয়স্বজনরা তাঁকে লাশ দেখতে নিষেধ করলেও তিনি শেষবারের মতো স্বামীকে দেখেন এবং তাঁর বুকে দুটি গুলির ক্ষত দেখতে পান। সে সময় তাঁদেরকে দ্রুত লাশ দাফন করে সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। তিনি ট্রাইব্যুনালকে আরও জানান, স্থানীয় আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ তাঁর স্বামীকে হত্যা করেনি, বরং পাশের থানার দুই পুলিশ সদস্য এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এই চাঞ্চল্যকর মামলায় মোট চারজন আসামি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক police সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে, বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন নামের অপর দুই আসামি গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে বন্দি আছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বামীর বুকে ছিল দুটি গুলি, ট্রাইব্যুনালে জাসাস নেতার স্ত্রীর জবানবন্দি

আপডেট সময় : ০৮:১০:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক দশক আগে ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত জাসাস নেতা কবির মোল্লার স্ত্রী আকলিমা বেগম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির হয়ে তিনি এই সাক্ষ্য দেন। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে উঠানে তাঁর গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।

এই মামলাটি মূলত ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ারে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা হয়। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হিসেবে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে, যেখানে আকলিমা বেগম ১৪তম সাক্ষী হিসেবে নিজের জবানবন্দি দিলেন।

জবানবন্দিতে আকলিমা বেগম ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় তাঁর স্বামীর খোঁজ করেছিলেন, কিন্তু কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি টেলিভিশনের সংবাদে তিনি জানতে পারেন যে, টিপু হাওলাদার ও তাঁর স্বামী কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। এই খবর পাওয়ার পরপরই তিনি তাঁর সন্তান ও দেবরকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।

গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর সেখানকার পরিস্থিতি তুলে ধরে আকলিমা বলেন, বাড়ির উঠানেই তাঁর স্বামীর মরদেহ পড়ে ছিল। আত্মীয়স্বজনরা তাঁকে লাশ দেখতে নিষেধ করলেও তিনি শেষবারের মতো স্বামীকে দেখেন এবং তাঁর বুকে দুটি গুলির ক্ষত দেখতে পান। সে সময় তাঁদেরকে দ্রুত লাশ দাফন করে সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। তিনি ট্রাইব্যুনালকে আরও জানান, স্থানীয় আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ তাঁর স্বামীকে হত্যা করেনি, বরং পাশের থানার দুই পুলিশ সদস্য এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এই চাঞ্চল্যকর মামলায় মোট চারজন আসামি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক police সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে, বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন নামের অপর দুই আসামি গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে বন্দি আছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo