ঢাকা ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

পীরগঞ্জে ইউরিয়া সার পেতে কৃষকদের চরম ভোগান্তি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:১১:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় ইউরিয়া সার সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। অবশেষে ডিলার পয়েন্টগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় খুচরা সার বিক্রির দোকানগুলোতে প্রয়োজনীয় সার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে ডিলারদের দোকানে ভিড় করছেন। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকে চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর অনেক কৃষককে মাত্র এক বস্তা করে সার দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে উপজেলার ৭ নম্বর বড় আলমপুর ইউনিয়নের ডিলার মেসার্স তৃপ্তি ট্রেডার্স এবং ১২ নম্বর মিঠিপুর ইউনিয়নের সাহা ভান্ডারে গিয়ে দেখা যায় সার নেওয়ার জন্য কৃষকদের দীর্ঘ সারি। সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষকদের কেবল এক বস্তা করেই সার দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ডিলারদের বিরুদ্ধে সার নিয়ে কারসাজির অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, মেসার্স তৃপ্তি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তোজাম্মেল হক দুলু তার ভাতিজা মানিকের দোকানে সার সরবরাহ করে সেখান থেকে বেশি দামে বিক্রি করছেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তোজাম্মেল হক দুলু।

সার সংকটের কারণে ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষক আব্দুল করিম বলেন, "সকাল থেকে বসে আছি। চার ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনো সার পাইনি।" আরেক কৃষক রবিউল প্রধান বলেন, "আমার জমিতে চার বস্তা সারের প্রয়োজন হলেও পেয়েছি মাত্র এক বস্তা। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাবে।"

সার সরবরাহ ও মজুতের বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান, পীরগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে ৪৯০ টন ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে। এছাড়া চলতি মাসে আরও ৩৫৩ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ আছে, যা উত্তোলন করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী মাসের বরাদ্দের সারও চলতি মাসে উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সার নিয়ে যাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট তৈরি হতে না পারে, সে বিষয়ে তারা কাজ করছেন। পীরগঞ্জ উপজেলায় সার নিয়ে বড় ধরনের কোনো সংকট তৈরি হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

পীরগঞ্জে ইউরিয়া সার পেতে কৃষকদের চরম ভোগান্তি

আপডেট সময় : ০৬:১১:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় ইউরিয়া সার সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। অবশেষে ডিলার পয়েন্টগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় খুচরা সার বিক্রির দোকানগুলোতে প্রয়োজনীয় সার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে ডিলারদের দোকানে ভিড় করছেন। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকে চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর অনেক কৃষককে মাত্র এক বস্তা করে সার দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে উপজেলার ৭ নম্বর বড় আলমপুর ইউনিয়নের ডিলার মেসার্স তৃপ্তি ট্রেডার্স এবং ১২ নম্বর মিঠিপুর ইউনিয়নের সাহা ভান্ডারে গিয়ে দেখা যায় সার নেওয়ার জন্য কৃষকদের দীর্ঘ সারি। সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষকদের কেবল এক বস্তা করেই সার দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ডিলারদের বিরুদ্ধে সার নিয়ে কারসাজির অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, মেসার্স তৃপ্তি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তোজাম্মেল হক দুলু তার ভাতিজা মানিকের দোকানে সার সরবরাহ করে সেখান থেকে বেশি দামে বিক্রি করছেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তোজাম্মেল হক দুলু।

সার সংকটের কারণে ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষক আব্দুল করিম বলেন, "সকাল থেকে বসে আছি। চার ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনো সার পাইনি।" আরেক কৃষক রবিউল প্রধান বলেন, "আমার জমিতে চার বস্তা সারের প্রয়োজন হলেও পেয়েছি মাত্র এক বস্তা। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাবে।"

সার সরবরাহ ও মজুতের বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান, পীরগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে ৪৯০ টন ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে। এছাড়া চলতি মাসে আরও ৩৫৩ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ আছে, যা উত্তোলন করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী মাসের বরাদ্দের সারও চলতি মাসে উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সার নিয়ে যাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট তৈরি হতে না পারে, সে বিষয়ে তারা কাজ করছেন। পীরগঞ্জ উপজেলায় সার নিয়ে বড় ধরনের কোনো সংকট তৈরি হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh