রাজশাহী ও লালমনিরহাটে চুরির অপবাদে দুই কিশোরকে বেঁধে নির্যাতন
- আপডেট সময় : ০১:৩০:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর দুর্গাপুর ও লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে চুরির অপবাদ দিয়ে দুই কিশোরকে হাত বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করার ঘটনা ঘটেছে। দুই কিশোরকে মারধরের এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীর ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে এবং লালমনিরহাটের ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে।
রাজশাহীর দুর্গাপুরে নির্যাতনের শিকার কিশোরের বয়স আনুমানিক ১৪ বছর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই কিশোরকে একটি গাছের সঙ্গে দুই হাত পিছমোড়া করে বেঁধে পেটানো হচ্ছে। এ সময় সে যন্ত্রণায় চিৎকার করে কাঁদছিল। পাশ থেকে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘কাঁদলে হাঁসুয়া দিয়ে তোর পায়ের নখ কেটে দেব।’ তখন নিরুপায় হয়ে শিশুটি বলছিল, ‘কাটো, কাটো…।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই কিশোরের বাবার বাড়ি দুর্গাপুর উপজেলায়। ২০১৮ সালে তার বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে সে পাশের গ্রামে নানার বাড়িতে থাকত। তার মা আবার বিয়ে করে বর্তমানে ঢাকায় থাকেন। মাসখানেক আগে কিশোরটি ঢাকায় মায়ের কাছে বেড়াতে গিয়েছিল এবং গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে ফিরে বাবার বাড়িতে আসে।
কিশোরের নানার বাড়ির প্রতিবেশী ও চা-দোকানি আবদুর রশিদ ওরফে বাবুর দাবি, এক মাস আগে ওই কিশোর তাঁর বাড়ি থেকে কিছু টাকা ও একটি মুঠোফোন চুরি করে পালিয়ে গিয়েছিল। নির্যাতনের সময় জেরার মুখে কিশোরটিকে বলতে শোনা যায়, তার বাবা তাকে ফোন চুরি করতে বলেছিলেন এবং চুরির টাকাও বাবাই নিয়েছেন।
তবে কিশোরের বাবা আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, ছেলেকে নির্যাতন করে জোরপূর্বক তাঁর নাম বলানো হয়েছে। বাড়িতে ফিরে ছেলে নিজেই এ কথা জানিয়েছে। স্থানীয় লোকজন ছেলের এই জবানবন্দিও ভিডিও করে রেখেছেন, যা আগামীতে সালিসের সময় তুলে ধরা হবে। আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলে যদি চুরি করে থাকে, তবে তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া উচিত ছিল। এভাবে গাছে বেঁধে মারধর করতে পারেন না।’ উল্লেখ্য, নির্যাতনকারী আবদুর রশিদ সম্পর্কে ওই কিশোরের মামা হন (কিশোরের নানির ভাইপো বা ফুফাতো ভাই)।
এ বিষয়ে আবদুর রশিদ বলেন, আজ সকাল আটটার দিকে তিনি ওই কিশোরের বাড়িতে যান। সেখানে কিশোরের বাবা চুরির বিষয়ে কিছু বলতে রাজি না হয়ে ছেলেকে নিয়ে যেতে বলেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে কিশোরটি তার বাবার শেখানোর কথা স্বীকার করলে স্থানীয় লোকজন তাকে গাছের সঙ্গে বাঁধে। তবে তাকে মারধর করা হয়নি বলে দাবি করেন রশিদ। বেলা ১১টার দিকে তিনি কিশোরটিকে আবার বাড়িতে রেখে আসেন। দুর্গাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, ভিডিওটি তাঁদের নজরে এসেছে এবং তদন্তের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুরের চাপারহাটে মসজিদের মাইক চুরির অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার সকালে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। মারধরের ৩১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় কিশোরটির দুই হাত রশি দিয়ে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হচ্ছে। কেউ কেউ তাকে চড়-থাপ্পড় ও লাথিও মারছিলেন, যার একপর্যায়ে কিশোরটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
ভিডিওটি নজরে আসার পর কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওই কিশোরের সন্ধান শুরু করেন। পুলিশ জানায়, নির্যাতনের শিকার কিশোরটি পাশের হাতীবান্ধা উপজেলার বাসিন্দা। এ ঘটনায় কিশোরের মা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১০-১২ দিন আগে ওই কিশোর মায়ের সঙ্গে কালীগঞ্জে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সে চাপারহাট বাজারে একটি মসজিদের সামনে গেলে আসামিরা তার পথরোধ করে মসজিদের ভেতরে নিয়ে আটকে রাখে। সেখানে চুরির অপবাদ দিলে কিশোরটি প্রতিবাদ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা তার দুই হাত বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। পরে স্বজনরা স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করান। কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিক জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় ওই কিশোরের মা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০–২৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।.পুলিশ, মামলার এজাহার ও এলাকার লোকজন সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী ১০–১২ দিন আগে তাঁর দুই ছেলেসহ বাবার বাড়ি কালীগঞ্জে বেড়াতে আসেন।



























