যশোরে মায়ের মাথা বিচ্ছিন্ন করল ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ ছেলে
- আপডেট সময় : ০৯:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

যশোর সদরের বাজে দুর্গাপুর গ্রামে নিজের মাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মামুনুর রশিদ মামুন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মামুন ধারালো বটি দিয়ে তার মা আনোয়ারা বেগমের (৫৮) মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত মামুন বটি ফেলে এলাকা থেকে পালিয়ে যান।
অভিযুক্ত মামুন বাজে দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন মাস্টারের ছেলে এবং পেশায় ঝিকরগাছার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, মামুন প্রায় পাঁচ বছর বাড়ির বাইরে থাকার পর গত ২৭ আগস্ট বাড়িতে ফেরেন। বাড়িতে মায়ের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে একপর্যায়ে মামুন ধারালো বটি দিয়ে তার মাকে মাটিতে ফেলে গলা কেটে হত্যা করেন। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে তিনি পালিয়ে যান।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান জানিয়েছেন, পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মামুনের আগের দুই স্ত্রী পারিবারিক অশান্তির কারণে তাকে তালাক দিয়েছিলেন। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মামুন তার স্ত্রীদের সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য তার মাকেই দায়ী মনে করতেন। এ নিয়ে অতীতেও মায়ের সঙ্গে তার বিরোধ ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে।
পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রায় তিন বছর আগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে দুই থেকে তিন মাসের জন্য চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, খবর পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অভিযুক্ত মামুনকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

























