ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইন প্রণয়নে বাধা দিতেই বিরোধী দলের পরিকল্পিত ওয়াকআউট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেডিকেল শিক্ষার্থী ফাতেমার স্বপ্ন পূরণে পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাগই ওনাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছে: আবদুল্লাহ তাহের রাজবাড়ী ডিগ্রি কলেজে এসএসসি ২০২৬ উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা রাশিয়ার গ্যাস কমপ্লেক্সে বিস্ফোরণ: নিহত ১ বাংলাদেশি কানাডায় বাংলাদেশি সিনেমায় জুটি বাঁধছেন জায়েদ খান ও অধরা ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিককে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া ঢাকার মঞ্চ মাতাতে আসছেন সেই ভাইরাল গানের ওটিলিয়া কলকাতা বইমেলার সুবর্ণজয়ন্তী: যুক্ত হচ্ছে ইজেডসিসি ও বুক ট্রাস্ট প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও সাবেক সচিব ড. হারুনুর রশিদ আর নেই

মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬: লঙ্ঘনকারীদের সুরক্ষার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত ‘খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬: পর্যালোচনা ও সুপারিশ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এই শঙ্কা ব্যক্ত করেন। তাঁদের মতে, বর্তমান খসড়া অনুযায়ী আইনটি কার্যকর হলে মানবাধিকার সুরক্ষার পরিবর্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের সুরক্ষা পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

বক্তারা বলেন, গুম বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনার তদন্ত যদি সেই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের প্রভাবাধীন থাকে, তবে আলামত নষ্ট হওয়ার এবং তদন্ত বাধাগ্রস্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রভাবমুক্ত থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনটি সংসদে পাসের আগে যথাযথ আলোচনা ও পর্যালোচনার প্রয়োজন। সম্ভব হলে সংসদীয় কমিটিতে পাঠিয়ে আইনটির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা দরকার। তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি, প্রস্তাবিত আইনে অনেক ক্ষেত্রে সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরই তদন্তের ভার ন্যস্ত থাকছে। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকিকেই বাড়িয়ে তুলবে।

ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, মানবাধিকার কমিশনকে নির্যাতন, গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার বাইরেও জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বৈষম্য দূরীকরণের মতো বিস্তৃত ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত আইনে কোনো ব্যক্তি মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে কমিশন ব্যবস্থা নিতে পারলেও, সেই ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রের কোনো কর্তৃপক্ষের অংশ হন তবে কমিশনের ক্ষমতা সীমিত হয়ে যায়, যা মৌলিক বৈষম্য এবং গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত কণ্ঠ ভোটে আইনটি পাস না করে বিভিন্ন সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী ও ভুক্তভোগীদের মতামত বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নূর খান বলেন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের জন্য কমিশনের পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরঙ্কুশ ক্ষমতা থাকা আবশ্যক। তদন্তের প্রতিটি ধাপে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকলে সত্য উদ্‌ঘাটন অসম্ভব হবে। তিনি খুলনার মোংলায় মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে ভয় পাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি বিচারপ্রাপ্তির পথ রুদ্ধ করে দেয়। তিনি আরও বলেন, কেবল আইন করলেই হবে না, কমিশনে সৎ, সাহসী ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে সাংবাদিক সোহরাব হাসান, ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের ইনক্লুশন উপদেষ্টা ভাস্কর ভট্টাচার্য, লেখক ও গবেষক অনুপম দেবাশীষ রায়, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল ও খান খালিদ আদনান এবং গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী নওশীন নূর বক্তব্য দেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬: লঙ্ঘনকারীদের সুরক্ষার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

আপডেট সময় : ১১:১১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত ‘খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬: পর্যালোচনা ও সুপারিশ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এই শঙ্কা ব্যক্ত করেন। তাঁদের মতে, বর্তমান খসড়া অনুযায়ী আইনটি কার্যকর হলে মানবাধিকার সুরক্ষার পরিবর্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের সুরক্ষা পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

বক্তারা বলেন, গুম বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনার তদন্ত যদি সেই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের প্রভাবাধীন থাকে, তবে আলামত নষ্ট হওয়ার এবং তদন্ত বাধাগ্রস্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রভাবমুক্ত থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনটি সংসদে পাসের আগে যথাযথ আলোচনা ও পর্যালোচনার প্রয়োজন। সম্ভব হলে সংসদীয় কমিটিতে পাঠিয়ে আইনটির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা দরকার। তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি, প্রস্তাবিত আইনে অনেক ক্ষেত্রে সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরই তদন্তের ভার ন্যস্ত থাকছে। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকিকেই বাড়িয়ে তুলবে।

ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, মানবাধিকার কমিশনকে নির্যাতন, গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার বাইরেও জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বৈষম্য দূরীকরণের মতো বিস্তৃত ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত আইনে কোনো ব্যক্তি মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে কমিশন ব্যবস্থা নিতে পারলেও, সেই ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রের কোনো কর্তৃপক্ষের অংশ হন তবে কমিশনের ক্ষমতা সীমিত হয়ে যায়, যা মৌলিক বৈষম্য এবং গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত কণ্ঠ ভোটে আইনটি পাস না করে বিভিন্ন সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী ও ভুক্তভোগীদের মতামত বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নূর খান বলেন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের জন্য কমিশনের পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরঙ্কুশ ক্ষমতা থাকা আবশ্যক। তদন্তের প্রতিটি ধাপে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকলে সত্য উদ্‌ঘাটন অসম্ভব হবে। তিনি খুলনার মোংলায় মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে ভয় পাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি বিচারপ্রাপ্তির পথ রুদ্ধ করে দেয়। তিনি আরও বলেন, কেবল আইন করলেই হবে না, কমিশনে সৎ, সাহসী ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে সাংবাদিক সোহরাব হাসান, ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের ইনক্লুশন উপদেষ্টা ভাস্কর ভট্টাচার্য, লেখক ও গবেষক অনুপম দেবাশীষ রায়, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল ও খান খালিদ আদনান এবং গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী নওশীন নূর বক্তব্য দেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo