গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য নতুন অধিদপ্তর করছে সরকার
- আপডেট সময় : ০৭:৫২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

দেশে গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের পুনর্বাসন, কল্যাণ, সুচিকিৎসা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন একটি অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই অধিদপ্তরটি প্রতিষ্ঠা করা হবে। আজ রোববার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সভায় মন্ত্রী জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়ে যেভাবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠন করেছে, একইভাবে দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ত্যাগ স্বীকারকারীদেরও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে। যাঁরা গুম হয়েছেন, নির্মম খুন বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে আর পরিবারের কাছে ফেরেননি, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা মিথ্যা মামলায় নিঃস্ব হয়ে বছরের পর বছর জেল খেটেছেন, তাঁদের এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে না পারে, তার জন্য একটি স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল স্বাধীনভাবে জীবন যাপন, মানবাধিকার সুরক্ষা, রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ বন্ধ এবং প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু ২০০৯ সালের পর থেকে ভোটের অধিকার হরণ এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেই চেতনাকে পদদলিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যে বিশাল জনগোষ্ঠী জীবন দিয়েছেন, অত্যাচারিত ও গুম হয়েছেন এবং আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়েছেন, তাঁদের প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সভায় মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা। দ্বিতীয়ত, গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের পূর্ণ অধিকার এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন করা। এবং তৃতীয়ত, কার্যপ্রণালি বিধি (রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬) সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলির মধ্যে এই দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা।
জাতিসংঘের ‘বেসিক প্রিন্সিপলস অ্যান্ড গাইডলাইনস অন দ্য রাইট টু আ রেমেডি অ্যান্ড রেপারেশন’ নীতিমালা এবং বাংলাদেশের সংবিধান অনুসরণ করে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে সভায় বিশদ আলোচনা হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পররাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, আইন ও বিচার, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবা, যুব ও ক্রীড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।


























