ভালুকায় গ্যাস সংকটে ২০ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ
- আপডেট সময় : ০৫:৩৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহের ভালুকায় তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০টি কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাদের ধাপে ধাপে ছুটি দিয়ে দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
শিল্প পুলিশ-৫-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভালুকা শিল্পাঞ্চলে মোট ২৯৩টি কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসচালিত। ২০ আগস্ট সকাল থেকেই এই এলাকায় গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। শিল্প পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০টি কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই অঞ্চলের প্রধান কারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।
গ্যাস সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেক্সটাইল ও সুতা তৈরির স্পিনিং মিলগুলো। এর মধ্যে ভালুকা-গৌরীপুরের টোয়েটা স্পিনিং মিলসের ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টিই বন্ধ রাখতে হয়েছে। ভরাডোবা এলাকার সীমা স্পিনিং মিলসেও ৩০টি মেশিন বন্ধ থাকায় উৎপাদন ৫০ শতাংশ কমেছে। এছাড়া বাশার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল, ডেল্টা স্পিনার্স, এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল এবং এক্সিলেন্ট সিরামিকসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও ভয়াবহ উৎপাদন সংকটের মুখে পড়েছে।
শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল জানান, মাহাদি সোয়েটার্স লিমিটেড, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল ও বিএসপি স্পিনিং মিলসহ ২০টি প্রতিষ্ঠান দুপুরের মধ্যেই কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে তিনি জানান, বিকেল ৫টার পর গ্যাসের চাপ বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ভালুকা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন জানান, এলাকাটিতে ১৪০ ও ১৫০ পিএসআই চাপের দুটি লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে তা কমে ৩০ থেকে ৫০ পিএসআইতে নেমে এসেছে। এদিকে ভরাডোবা গোরি টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলসের ইউটিলিটি ব্যবস্থাপক সোহেল আহমেদ জানান, তাদের ১৫ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে পাচ্ছেন মাত্র ১১ থেকে ১২ পিএসআই, যার ফলে উৎপাদন ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমে গেছে। শিল্প উদ্যোক্তারা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।



























