ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের অনীহাই বড় বাধা: ক্রেমলিন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও কমিটি গঠন স্থগিত লালমোহনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের সচেতনতামূলক প্রচারণা যুব উন্নয়ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে গ্রেপ্তার ৫ শারদীয় দুর্গাপূজায় টানা পাঁচদিনের ছুটি, শনিবার খোলা ব্যাংক সরকারি বাসা বরাদ্দ এখন অনলাইনে, স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ সৌদি আরবের অধিকাংশ আকাশসীমা ও বিমানবন্দর ‘অনিরাপদ’: হুথি মুখপাত্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পর্যটকদের জন্য আবারও উন্মুক্ত সাজেক যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসের নিরাপত্তা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশ ইসরাইলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সময় ওয়াকআউট করল বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে ৭৪ লাখ টাকার বৃত্তি পেলেন হবিগঞ্জের জান্নাতুল

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেলেন হবিগঞ্জের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস (জেমি)। চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিউ) পড়াশোনার জন্য তিনি প্রায় ৭৪ লাখ টাকার (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) বৃত্তি পেয়েছেন। চার বছর মেয়াদি এই বৃত্তির আওতায় প্রতিবছর তিনি ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান এক চিঠির মাধ্যমে জান্নাতুলকে এই বৃত্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জান্নাতুল হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি শায়েস্তাগঞ্জের পশ্চিম লেঞ্জাপাড়ায়। তাঁর বাবা আফজল আলী একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পারিবারিক নানা টানাপোড়েন ও প্রতিকূলতার মধ্যেও কলেজ কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহায়তায় জান্নাতুল তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।

২০২৫ সালে জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন জান্নাতুল। এরপর গত ২০ জুলাই থেকে তিনি শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসের একটি সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নেন। বিজ্ঞানভিত্তিক এবং ইংরেজি মাধ্যমের এই সামার স্কুলে অংশ নেওয়া জান্নাতুলের জন্য সহজ ছিল না। তবে নিজের প্রবল আগ্রহ, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের জোরে তিনি সফলভাবে এই প্রোগ্রামটি শেষ করেন। এরপর শেভরনের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে তাঁর উচ্চশিক্ষার এই সুযোগ তৈরি হয়।

এমন চমৎকার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত জান্নাতুল বলেন, 'এ রকম একটি বৃত্তির কথা শুনে প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। বারবার চিঠি পড়ে বিশ্বাস তৈরি করছিলাম। এখন নিজেকে প্রস্তুত করা শুরু করেছি। আমাকে আরও এগোতে হবে। পাশাপাশি আমি চাই, আরও শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তি অর্জন করুক।'

মেয়ের এমন অভাবনীয় অর্জনে অত্যন্ত আনন্দিত বাবা আফজল আলী। তিনি জানান, মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁর ছিল না। জান্নাতুল এই বৃত্তি পাওয়ায় তিনি এখন সম্পূর্ণ চিন্তামুক্ত হয়েছেন। তাঁর মেয়ে একটি ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা লাভ করে জীবনে এগিয়ে যাবে—এই ভেবে তিনি গর্ববোধ করছেন।

জান্নাতুলের এই সাফল্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করেন জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, সদিচ্ছা, প্রচেষ্টা ও প্রতিভার সমন্বয় থাকলে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব—জান্নাতুল তার এক অনন্য প্রমাণ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে ৭৪ লাখ টাকার বৃত্তি পেলেন হবিগঞ্জের জান্নাতুল

আপডেট সময় : ০৯:৩২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেলেন হবিগঞ্জের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস (জেমি)। চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিউ) পড়াশোনার জন্য তিনি প্রায় ৭৪ লাখ টাকার (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) বৃত্তি পেয়েছেন। চার বছর মেয়াদি এই বৃত্তির আওতায় প্রতিবছর তিনি ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান এক চিঠির মাধ্যমে জান্নাতুলকে এই বৃত্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জান্নাতুল হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি শায়েস্তাগঞ্জের পশ্চিম লেঞ্জাপাড়ায়। তাঁর বাবা আফজল আলী একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পারিবারিক নানা টানাপোড়েন ও প্রতিকূলতার মধ্যেও কলেজ কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহায়তায় জান্নাতুল তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।

২০২৫ সালে জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন জান্নাতুল। এরপর গত ২০ জুলাই থেকে তিনি শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসের একটি সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নেন। বিজ্ঞানভিত্তিক এবং ইংরেজি মাধ্যমের এই সামার স্কুলে অংশ নেওয়া জান্নাতুলের জন্য সহজ ছিল না। তবে নিজের প্রবল আগ্রহ, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের জোরে তিনি সফলভাবে এই প্রোগ্রামটি শেষ করেন। এরপর শেভরনের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে তাঁর উচ্চশিক্ষার এই সুযোগ তৈরি হয়।

এমন চমৎকার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত জান্নাতুল বলেন, 'এ রকম একটি বৃত্তির কথা শুনে প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। বারবার চিঠি পড়ে বিশ্বাস তৈরি করছিলাম। এখন নিজেকে প্রস্তুত করা শুরু করেছি। আমাকে আরও এগোতে হবে। পাশাপাশি আমি চাই, আরও শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তি অর্জন করুক।'

মেয়ের এমন অভাবনীয় অর্জনে অত্যন্ত আনন্দিত বাবা আফজল আলী। তিনি জানান, মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁর ছিল না। জান্নাতুল এই বৃত্তি পাওয়ায় তিনি এখন সম্পূর্ণ চিন্তামুক্ত হয়েছেন। তাঁর মেয়ে একটি ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা লাভ করে জীবনে এগিয়ে যাবে—এই ভেবে তিনি গর্ববোধ করছেন।

জান্নাতুলের এই সাফল্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করেন জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, সদিচ্ছা, প্রচেষ্টা ও প্রতিভার সমন্বয় থাকলে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব—জান্নাতুল তার এক অনন্য প্রমাণ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo