ভেদরগঞ্জে তরুণীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, চুল কেটে জুতার মালা পরানো

- আপডেট সময় : ০২:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামে চুরির অভিযোগ তুলে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে গাছে বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার ঘটা এই ঘটনায় ওই তরুণীকে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করা হয়। নির্যাতনের সময় তাঁর গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয় এবং মাথার চুল কেটে ফেলা হয়। এ সময় তরুণীর ১২ বছর বয়সী ছোট বোনকেও একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। নির্যাতনের কয়েকটি ভিডিও শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে।
ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুরে নদীভাঙনের শিকার হয়ে পরিবারটি প্রায় তিন মাস আগে ভেদরগঞ্জের ওই গ্রামে ভাড়া বাসায় ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, বাড়ির পাশের মুদিদোকানের মালিক মনির হোসেন মোল্যা প্রায়ই ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত করতেন ও কুপ্রস্তাব দিতেন। মঙ্গলবার তরুণী তাঁর বোন ও আট বছর বয়সী ভাইকে নিয়ে মনিরের দোকানে চাল, ডাল ও তেল কিনতে গেলে মনির তাঁকে কুপ্রস্তাব দেন। তরুণী বিষয়টি মা-বাবাকে জানানোর কথা বললে মনির চুরির অভিযোগ তুলে তিন ভাই-বোনকে পাশের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যানটিনে আটকে রাখেন। পরে তাঁদের বাড়ির মালিকের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়।
তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, মনির হোসেন, বাড়ির মালিক ফৌজিয়া সরদার, তাঁর আত্মীয় নিশি আক্তার ও আফসানা বেগম মিলে তরুণী ও তাঁর ছোট বোনকে গাছে বেঁধে মারধর করেন। খবর পেয়ে সখিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। ভুক্তভোগী তরুণীর মা জানান, ঘটনার দিন রাতে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালেও পুলিশ শুরুতে তাঁকে ছেড়ে দিয়েছিল। এরপর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। পরে গত রাতে মনির হোসেনকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলা হওয়ার পর শনিবার ভোরে পুলিশ আফসানা বেগম ও আমির নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন জানান, তরুণীকে উদ্ধারের পর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এদিকে প্রধান অভিযুক্ত মনির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তরুণী তাঁর দোকান থেকে মালামাল চুরি করেছিলেন এবং বাড়ির মালিক বকেয়া ভাড়ার টাকা আদায়ের জন্য এই নির্যাতন চালিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে মূল অভিযুক্ত মনির ও বাড়ির মালিক ফৌজিয়া সরদার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

























