যশোরের ভবদহে ফের জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী
- আপডেট সময় : ০৮:২৪:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

যশোরের দুঃখখ্যাত অভয়নগর উপজেলার ভবদহ অঞ্চলে আবারও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা ও ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতি বছর প্রায় ছয় মাস পানিবন্দি থাকা ভবদহবাসীর জন্য এই দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল যে, এ বছর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নদী ও খাল পুনঃখনন প্রকল্পের মাধ্যমে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে। প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের কাজ চললেও বর্ষার শুরুতেই অতিবৃষ্টির কারণে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই আশা ফিকে হয়ে গেছে। বর্তমানে অনেক বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও বীজতলার মাঠ প্লাবিত হয়েছে।
মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতির কথা জানিয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা লিপটন সরদার বলেন, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে উপজেলার ২২০টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৭ কোটি টাকা।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতা ইকবাল জাহিদ জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু নদী খনন যথেষ্ট নয়, টিআরএম বাস্তবায়নও জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, খর্ণিয়া ব্রিজের দক্ষিণে অস্থায়ী বাঁধের কারণে পলি জমে প্রায় সাত কিলোমিটার নদীপথ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জি জানান, খর্ণিয়া এলাকায় ড্রেজিং কাজে বিলম্বের কারণে সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ৯টি স্লুইস গেট খোলা রাখা হয়েছে এবং পানির উচ্চতা পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি কমেছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ২৯টি গেট প্রস্তুত রয়েছে এবং আরও ১১টি গেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সব গেট চালু হলে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির আশা করা হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাত না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়িঘর ও সড়ক থেকে পানি নেমে যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।


























