জিনের বাদশার প্রলোভনে ১০ লাখ টাকা খোয়ালেন প্রবাসীর স্ত্রী

- আপডেট সময় : ০৬:১৯:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

সৌদি প্রবাসী স্বামীর পাওনা ৩৫ লাখ টাকা উদ্ধারের আশায় প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে ১০ লাখ টাকা খুইয়েছেন রাজধানীর তেজকুনিপাড়ার বাসিন্দা গৃহবধূ রহিমা বেগম। ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে অলৌকিক ক্ষমতার মাধ্যমে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টাকা উদ্ধারের প্রলোভন দেখিয়ে চক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে তার কাছ থেকে এই অর্থ হাতিয়ে নেয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের ৮ মার্চ। রহিমা বেগম ফেসবুক ও ইউটিউবে ‘হাবিবুল্লাহ হুজুরের দরবার শরীফ’, ‘জৈনপুরী মা-ফাতেমা দরবার শরীফ’ ও ‘তান্ত্রিককম.ঘর’ নামে কয়েকটি বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেন। তার স্বামী কবির হোসেন সৌদি আরবে নিজের কফিলকে ৩৫ লাখ টাকা দিয়েছিলেন, যা ভিসা জটিলতায় আটকে যায়। প্রতারকরা সেই টাকা উদ্ধারের আশ্বাস দেয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটি ধাপে ধাপে টাকা আদায়ের কৌশল হিসেবে আগরবাতি, মোমবাতি, গোলাপজল ও সিঁদুর কেনার কথা বলত। এরপর ‘বদ জিনের শনি’ কাটানোর নামে ভুটানি গরুর ২১ কেজি দুধ, রত্নময়ী আংটি, মিষ্টি, আগুনে ছোঁয়া বিশেষ শাড়ি, বিদেশি শকুন এবং আবাবিল পাখি কেনার কথা বলে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকা নেওয়ার পর প্রতারকরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
ভুক্তভোগী রহিমা বেগম জানান, প্রতারকরা কোরআনের ওপর হাত রেখে শপথ করাত এবং কাউকে কিছু বললে সন্তানসহ পরিবারের অমঙ্গল হবে বলে ভয় দেখাত। একপর্যায়ে টাকার শোকে তিনি আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন।
২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল রহিমা বেগম তেজগাঁও থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পিবিআই ২৩ জনকে আসামি করে ১৩ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। গ্রেপ্তারকৃত মো. রাকিব, মো. রাকিব মোল্লা ও মো. আলাউদ্দিন আদালতে জবানবন্দিতে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন। রাকিব মোল্লা জবানবন্দিতে জানান, ২০১৯ সাল থেকে জিনের বাদশা সেজে প্রতারণা করে আসছেন তিনি। এছাড়া অন্য আসামিরা জানান, তারা ২০২০ সাল থেকে জিনের বাদশা সেজে এই প্রতারণা করছেন এবং এ পর্যন্ত ২-৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. সজিবুল হাসান জানান, চক্রটি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং ধর্মকে পুঁজি করে মানুষের বিপদকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করত। অধিকাংশ আসামির বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামি বর্তমানে জামিনে আছেন এবং অন্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে। আগামী রোববার আদালত অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার বিষয়ে শুনানি করবেন।




























