ডেঙ্গু মোকাবিলায় আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই মূল ভরসা: বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

- আপডেট সময় : ০৪:১১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে বরং সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। মশাবাহিত এই রোগ থেকে বাঁচতে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই বলে তারা জানিয়েছেন। বর্তমানে ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা কার্যকর ওষুধ না থাকায় ব্যক্তিগত সচেতনতা ও চারপাশ পরিষ্কার রাখাকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশা আমাদের বাড়ির ভেতর, আঙিনা, ছাদ এবং আশেপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির আনাচে-কানাচে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় পাত্রসমূহ ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেটরের নিচের পাত্রে যেন কোনোভাবেই পাঁচদিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ২৮ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৬ জন এবং এ পর্যন্ত মোট ১৭ হাজার ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়েছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই কেবল হাসপাতালে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; এটি বাড়ি, বিদ্যালয়, কর্মস্থল এবং স্থানীয় জনসমাজ থেকে শুরু করতে হবে। তিনি আরও বলেন, রোগীকে দ্রুত শনাক্ত করা, ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া, দরিদ্র রোগীদের সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। বৃষ্টির পর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বৃষ্টিকে শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখলে সংকট আরও গভীর হবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান জানান, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। এ সময় মাথায় পানি দেওয়া বা শরীর মুছে জ্বর কমানোর পাশাপাশি ছয় থেকে আট ঘণ্টা পরপর জ্বরের তীব্রতা বুঝে প্যারাসিটামল সেবন করতে হবে। চিকিৎসার মূল ভিত্তি হিসেবে পর্যাপ্ত পানি ও তরল জাতীয় খাবার যেমন- ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, ফলের রস ও স্যুপ পান করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ডা. হাসান হাফিজুর রহমান আরও বলেন, এডিস মশা স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে, তাই মশক নিধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল ও জলাশয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।
























