ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক জোন বাংলাদেশের শিল্পায়নে নতুন যুগের সূচনা সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী বিহারের সিওয়ানে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের একে-৪৭ দিয়ে গুলি, কনস্টেবল বরখাস্ত গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে ১০-১৫ দিন সময় লাগবে: জ্বালানিমন্ত্রী সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ইরাক থেকে ড্রোন হামলা ঢাবি ছাত্রী হলে সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম ৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বদলি তিন শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতাল আর্মি স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সমাপনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে আলোচনা দল টিকিয়ে রাখার কৌশল: পার্থ

আগামী সপ্তাহে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়বে: প্রতিমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত একটি এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে দেশজুড়ে চলমান গ্যাস সংকটের কিছুটা উন্নতি আগামী সপ্তাহে হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী সপ্তাহে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বাড়বে, তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

প্রতিমন্ত্রী আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেন, আগামী সপ্তাহে ২৮ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে, যা মোট সরবরাহের প্রায় ৫০ শতাংশ। এর পরের সপ্তাহে শতভাগ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সরকারের একটি কারিগরি দল মার্কিন কোম্পানি অ্যাকসিলারেট এনার্জির সঙ্গে কাজ করছে, যাদের টার্মিনালে গত মঙ্গলবার আগুন লাগার পর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

এই সংকটের কারণে সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে, নগরের গৃহস্থালিতে রান্নার কাজে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে এবং শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও গত বছর থেকে গড়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল। অ্যাকসিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সরবরাহ ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে।

প্রতিমন্ত্রী জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান দেওয়া যাচ্ছে না। দিতে পারছি না, এটা আমাদের সীমাবদ্ধতা। বারবার দুঃখ প্রকাশ করছি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে ন্যূনতম কোনো দ্বিধা নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, “বলতে কোনো দ্বিধা নেই, এটি সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি নয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি, যদিও তারা দেশে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে। সরকারি প্রতিষ্ঠান নয় বলে দায় স্বীকার করব না, বিষয়টি এমন নয়।”

অ্যাকসিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগা এবং বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনাকে একটি নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, অ্যাকসিলারেট, সামিট বা বাংলাদেশ সরকার—কারও এমন অভিজ্ঞতা ছিল না। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের কিছু যন্ত্রাংশ আমদানি করতে হবে এবং সরকার দ্রুত উড়োজাহাজে করে আনা এসব যন্ত্রাংশ খালাসের দায়িত্ব নেবে।

প্রতিমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ বলতে পারেননি, কারণ এর আগে অ্যাকসিলারেট নির্দিষ্ট সময় বললেও নানা কারিগরি কারণে কাজ শেষ করতে পারেনি। তিনি নিশ্চিত করেন যে এলএনজি আমদানিতে কোনো সংকট নেই; বরং এলএনজি নিয়ে নিয়মিত জাহাজ আসছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় জাহাজ আসার সূচি কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। টার্মিনালের পাশে থাকা একটি এলএনজি–ভর্তি জাহাজ দ্রুত সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে বলেও তিনি জানান।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

আগামী সপ্তাহে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়বে: প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৬:২৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
print news

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত একটি এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে দেশজুড়ে চলমান গ্যাস সংকটের কিছুটা উন্নতি আগামী সপ্তাহে হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী সপ্তাহে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বাড়বে, তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

প্রতিমন্ত্রী আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেন, আগামী সপ্তাহে ২৮ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে, যা মোট সরবরাহের প্রায় ৫০ শতাংশ। এর পরের সপ্তাহে শতভাগ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সরকারের একটি কারিগরি দল মার্কিন কোম্পানি অ্যাকসিলারেট এনার্জির সঙ্গে কাজ করছে, যাদের টার্মিনালে গত মঙ্গলবার আগুন লাগার পর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

এই সংকটের কারণে সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে, নগরের গৃহস্থালিতে রান্নার কাজে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে এবং শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও গত বছর থেকে গড়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল। অ্যাকসিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সরবরাহ ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে।

প্রতিমন্ত্রী জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান দেওয়া যাচ্ছে না। দিতে পারছি না, এটা আমাদের সীমাবদ্ধতা। বারবার দুঃখ প্রকাশ করছি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে ন্যূনতম কোনো দ্বিধা নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, “বলতে কোনো দ্বিধা নেই, এটি সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি নয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি, যদিও তারা দেশে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে। সরকারি প্রতিষ্ঠান নয় বলে দায় স্বীকার করব না, বিষয়টি এমন নয়।”

অ্যাকসিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগা এবং বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনাকে একটি নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, অ্যাকসিলারেট, সামিট বা বাংলাদেশ সরকার—কারও এমন অভিজ্ঞতা ছিল না। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের কিছু যন্ত্রাংশ আমদানি করতে হবে এবং সরকার দ্রুত উড়োজাহাজে করে আনা এসব যন্ত্রাংশ খালাসের দায়িত্ব নেবে।

প্রতিমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ বলতে পারেননি, কারণ এর আগে অ্যাকসিলারেট নির্দিষ্ট সময় বললেও নানা কারিগরি কারণে কাজ শেষ করতে পারেনি। তিনি নিশ্চিত করেন যে এলএনজি আমদানিতে কোনো সংকট নেই; বরং এলএনজি নিয়ে নিয়মিত জাহাজ আসছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় জাহাজ আসার সূচি কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। টার্মিনালের পাশে থাকা একটি এলএনজি–ভর্তি জাহাজ দ্রুত সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে বলেও তিনি জানান।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo