ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপি গাজী নজরুল আবারও রিমান্ডে, এবার ৪ দিনের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করে নিপীড়িত হয়েছেন রুহুল আমিন গাজী: রিজভী তুরস্কের শানলিউরফায় ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত ইসলামাবাদে পিটিআইয়ের মিছিল ঘিরে দেশজুড়ে ধরপাকড় ও কড়াকড়ি ৫১তম বিসিএসে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, আবেদন শুরু ১ অক্টোবর জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা: নিহত ৪, পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কাটলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করবে সরকার মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রতি ডেপুটি স্পিকারের আহ্বান আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-কুমি: ইবন আরাবির বর্ণনায় এক সুফি সাধক

নরসিংদীর লালমাটির টিলায় বাড়ছে মিষ্টি মধুর আনারস চাষ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নরসিংদীর পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের রাবান, কুড়াইতলী, ছয়দড়িয়া, লাখেরাজ, বরাবো, ভালুকাপাড়া, বিলপাড়, সাতটেকিয়া, কাটাবের, বড়িবাড়ি, বাঘাবো এবং উত্তর চন্দনের কিছু অংশজুড়ে বিস্তৃত লালমাটির টিলাগুলো এখন আনারসের মিষ্টি ঘ্রাণে মুখর। এখানকার উর্বর মাটিতে উৎপাদিত আনারস তার অনন্য স্বাদ ও রসে ভরপুর বৈশিষ্ট্যের কারণে দেশজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে। বাগানগুলো দেখতে ও টাটকা আনারস কিনতে নরসিংদীসহ আশপাশের জেলা থেকেও প্রচুর মানুষ ছুটে আসেন।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের ১১টি গ্রামে প্রায় ১৪৪ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। হেক্টর প্রতি ফলন পাওয়া গেছে প্রায় ১২ টন। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। তবে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বাইরে থেকে আনারস এনে রাবানের আনারস হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ও প্রতিরোধের দাবি উঠেছে।

স্থানীয় কৃষক সুরুজ মিয়া জানান, বংশপরম্পরায় আনারস চাষের এই পেশা তিনি ও তার ছেলে ধরে রেখেছেন। বাড়ির পাশে তিনটি বাগানে তিনি আট হাজার চারা রোপণ করেছেন, যার মধ্যে ছয় হাজার গাছে ফলন এসেছে। তিনি জানান, বাগান পাইকারদের কাছে বিক্রি না করে প্রতিদিন অল্প অল্প করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করায় লাভ বেশি পাওয়া যায় এবং চাষাবাদে জৈব সার ছাড়া অন্য কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না।

আরেক কৃষক অজিদ দত্ত জানান, চাকরির পাশাপাশি তিনি পাঁচ হাজার চারা নিয়ে একটি বাগান করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বৃষ্টি সময়মতো হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে, যদিও ইঁদুরের উপদ্রব কিছুটা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, মেয়ের নার্সিং পড়ার খরচের জন্য বাগানটি ৯০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছেন।

কালীগঞ্জ থেকে আনারস কিনতে আসা ক্রেতা বশির বলেন, এখানকার আনারসের স্বাদ ও সুবাস অতুলনীয়। আকারে কিছুটা ছোট হলেও স্বাদের কারণে তিনি বেশি দাম দিয়েই এখানকার আনারস কিনতে পছন্দ করেন। পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আয়েশা আক্তার জানিয়েছেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে একাধিকবার পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা পুরোপুরি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, তবে কৃষকদের পাশে থেকে তাদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ অব্যাহত রেখেছে কৃষি বিভাগ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

নরসিংদীর লালমাটির টিলায় বাড়ছে মিষ্টি মধুর আনারস চাষ

আপডেট সময় : ০৬:১৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের রাবান, কুড়াইতলী, ছয়দড়িয়া, লাখেরাজ, বরাবো, ভালুকাপাড়া, বিলপাড়, সাতটেকিয়া, কাটাবের, বড়িবাড়ি, বাঘাবো এবং উত্তর চন্দনের কিছু অংশজুড়ে বিস্তৃত লালমাটির টিলাগুলো এখন আনারসের মিষ্টি ঘ্রাণে মুখর। এখানকার উর্বর মাটিতে উৎপাদিত আনারস তার অনন্য স্বাদ ও রসে ভরপুর বৈশিষ্ট্যের কারণে দেশজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে। বাগানগুলো দেখতে ও টাটকা আনারস কিনতে নরসিংদীসহ আশপাশের জেলা থেকেও প্রচুর মানুষ ছুটে আসেন।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের ১১টি গ্রামে প্রায় ১৪৪ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। হেক্টর প্রতি ফলন পাওয়া গেছে প্রায় ১২ টন। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। তবে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বাইরে থেকে আনারস এনে রাবানের আনারস হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ও প্রতিরোধের দাবি উঠেছে।

স্থানীয় কৃষক সুরুজ মিয়া জানান, বংশপরম্পরায় আনারস চাষের এই পেশা তিনি ও তার ছেলে ধরে রেখেছেন। বাড়ির পাশে তিনটি বাগানে তিনি আট হাজার চারা রোপণ করেছেন, যার মধ্যে ছয় হাজার গাছে ফলন এসেছে। তিনি জানান, বাগান পাইকারদের কাছে বিক্রি না করে প্রতিদিন অল্প অল্প করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করায় লাভ বেশি পাওয়া যায় এবং চাষাবাদে জৈব সার ছাড়া অন্য কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না।

আরেক কৃষক অজিদ দত্ত জানান, চাকরির পাশাপাশি তিনি পাঁচ হাজার চারা নিয়ে একটি বাগান করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বৃষ্টি সময়মতো হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে, যদিও ইঁদুরের উপদ্রব কিছুটা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, মেয়ের নার্সিং পড়ার খরচের জন্য বাগানটি ৯০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছেন।

কালীগঞ্জ থেকে আনারস কিনতে আসা ক্রেতা বশির বলেন, এখানকার আনারসের স্বাদ ও সুবাস অতুলনীয়। আকারে কিছুটা ছোট হলেও স্বাদের কারণে তিনি বেশি দাম দিয়েই এখানকার আনারস কিনতে পছন্দ করেন। পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আয়েশা আক্তার জানিয়েছেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে একাধিকবার পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা পুরোপুরি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, তবে কৃষকদের পাশে থেকে তাদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ অব্যাহত রেখেছে কৃষি বিভাগ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh