চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর ভবনে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণ
- আপডেট সময় : ০৬:৪০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তা না পেয়ে তাঁর নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। আজ রোববার সকাল আটটার দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড়–ভাটিয়ারী লিংক রোড সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে একটি টেম্পোতে চড়ে মুখে মাস্ক পরা ৮ থেকে ১০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনের সামনে এসে নামে। ভবনে তখন শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। সন্ত্রাসীরা হঠাৎ ভেতরে ঢুকে শ্রমিকদের মারধর শুরু করে এবং দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে হাসান সাকি নামের এক নির্মাণশ্রমিককে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। এ সময় ভবনের নিরাপত্তাকর্মীসহ আরও কয়েকজন শ্রমিককে মারধর করা হয়। চলে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের হাটহাজারী থানার বড় দিঘিরপাড় এলাকায় চাল ও চিনির পাইকারি ব্যবসা রয়েছে। সম্প্রতি তিনি এই ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেন। জসিম উদ্দিন জানান, এক মাস ধরে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। শহরে একটি ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলার পর সবাই প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীরা কিছুদিন চুপ ছিল। তবে এক সপ্তাহ ধরে আবারও চাঁদার জন্য ফোন আসছিল। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানিয়েছিলেন। রোববারের হামলার ঘটনায় থানায় মামলা করবেন বলে জানান তিনি। তবে হুমকিদাতাদের নাম তিনি জানেন না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু জসিম উদ্দিনের ভবনই নয়, বড় দিঘিরপাড় এলাকায় নির্মাণাধীন ৮ থেকে ১০টি ভবনে ফোন করে চাঁদা আদায় করেছে সন্ত্রাসীরা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই এলাকায় এমন চাঁদাবাজির ঘটনা আর ঘটেনি।
এর আগে গত ১৩ জুলাই নগরের চকবাজার অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল কার্যালয়ে ঢুকে আসবাব ও কম্পিউটার ভাঙচুর করে এবং কর্মীদের ভয়ভীতি দেখায়। ওই ঘটনায় মামলার পর র্যাব ও পুলিশ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে। মামলায় সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চাঁদা দাবি করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। তবে পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে ইমন পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, তারা ছুরি বা কিরিচ নিয়ে হামলা চালান না এবং তাঁদের হামলার ধরন কেমন, তা পুরো চট্টগ্রামবাসী জানে।


























