মিরপুরে যুবদল কর্মী হত্যায় ঝিনাইদহ থেকে ভাড়াটে খুনি

- আপডেট সময় : ১১:৫০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকায় শুক্রবার রাতে যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী পারভেজ (৪৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঝিনাইদহ থেকে আসা ভাড়াটে খুনিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিরোধকে মূল কারণ হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর বাসার পাশের একটি চায়ের দোকানে আড্ডার সময় এই হামলা চালানো হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন হাফিজুল ইসলাম। নিহত ইউসুফ আলীর বড় ভাই মাসুদ রানা শনিবার সকালে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তিনি জানান, তাঁর ভাই খুনিদের লক্ষ্য ছিলেন না, বরং হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে থাকার কারণে তিনি হামলার শিকার হন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চারজন ভাড়াটে খুনিকে চার দিন আগেই ঝিনাইদহ থেকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। তাদের মিরপুর ১০ নম্বরের একটি আবাসিক হোটেলে রাখা হয় এবং হাফিজুল ইসলামের বাড়ি ও ব্যক্তিগত কার্যালয় রেকি করার পর শুক্রবার রাতে তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয়। ঘটনার সময় সন্দেহজনক দুই ব্যক্তিকে দেখে পরিচয় জানতে চাইলে হামলাকারীরা গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে ইউসুফ আলী নিহত হন এবং মনির হোসেন নামে আরেক যুবদল কর্মী গুরুতর আহত হন। এ সময় স্থানীয় সবজি বিক্রেতা সালাম সরদারও আহত হন।
স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে চঞ্চল মোল্যা (৩৪) নামে একজনকে পিস্তলসহ আটক করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঝিনাইদহ থেকে আসার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় কাফরুল থানার এসআই শ্যামল কুমার হালদার অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা করেছেন। চঞ্চল ছাড়াও জিহাদ মোল্লা (৩৪), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯) ও হাসান (৩৫)-কে আসামি করা হয়েছে। চঞ্চলকে তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্যসচিব সাজ্জাদুল মিরাজ জানান, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণিত হলে সংগঠনের পক্ষ থেকে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


























