ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিকাশ, রবিসহ ৪ ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক শাহ আলীতে পলিথিন ব্যাগ থেকে নবজাতক উদ্ধার, ৯৯৯-এ ফোন সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা রাজশাহীতে মাদকাসক্ত ছেলের হাসুয়ার কোপে মা নিহত, বাবা আহত সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত গোবিপ্রবির ৫ শিক্ষার্থী মক্কা-জেদ্দাসহ সৌদির বিভিন্ন এলাকায় সিভিল ডিফেন্সের সতর্কতা জারি আ.লীগ ফিরলে জামায়াত নেতাদের আবারও ফাঁসি দেবে: রাশেদ খাঁন মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা ইসলামের চিরন্তন শিক্ষা এমপি গাজী নজরুল আবারও রিমান্ডে, এবার ৪ দিনের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করে নিপীড়িত হয়েছেন রুহুল আমিন গাজী: রিজভী

জাতিসংঘে ভাষণে যুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরবেন ট্রাম্প

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে যুদ্ধক্ষেত্রে ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের দাবি করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইরানের সঙ্গে তাঁর থমকে থাকা যুদ্ধ থেকে ছড়িয়ে পড়া সংকটের কারণে ভাষণটি গুরুত্বের দিক থেকে চাপা পড়ে যেতে পারে। ট্রাম্প তাঁর বহুল উচ্চারিত দাবির পুনরাবৃত্তি করে নিজেকে বিশ্বের ‘সবচেয়ে আলোচিত দেশের’ নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করবেন, যদিও এই যুদ্ধ হোয়াইট হাউসের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতির বিষয়টিও সামনে রয়েছে। নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরতে ট্রাম্প গাজা সংঘাত অবসানে তাঁর বিতর্কিত উদ্যোগের সাফল্য এবং ইসরাইলের সঙ্গে আব্রাহাম চুক্তিতে আরও আরব দেশকে যুক্ত করার চলমান প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করতে পারেন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ড্যানিয়েল ফোর্তি বলেন, ট্রাম্প শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে নিজের অর্জন উদযাপন করার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান সামরিক অভিযানগুলোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বনেতারা ট্রাম্পের বক্তব্যে কী প্রতিক্রিয়া দেখাবেন, তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের শুরুতে দেওয়া এই মূল ভাষণটি বিশ্ব সংস্থাটির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নিয়মিত আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই তিনি জাতিসংঘ ও মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সমালোচনা করে আসছেন। যদিও গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন জাতিসংঘের বাজেটে ৭২৫ মিলিয়ন ডলার প্রদান করায় ভোটাধিকার হারানোর বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়ানো গেছে। এছাড়া গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতির বিষয়ে একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিয়ে ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে সংশয় দেখা দিতে পারে। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ট্রাম্প বারবার দিয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছে।

ভাষণপর্বের পাশাপাশি ট্রাম্প বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন, যার মধ্যে রয়েছেন ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রড্রিগেজ। রড্রিগেজের পূর্বসূরি নিকোলাস মাদুরোকে জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী আটক করার পর থেকে তিনি তীব্র মার্কিন চাপের মধ্যে সরকার পরিচালনা করছেন।

গত বছর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এসকেলেটর বন্ধ হওয়া এবং টেলিপ্রম্পটারে ত্রুটির ঘটনা নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ এখনো স্পষ্ট। ওভাল অফিসে গত সপ্তাহে তিনি দাবি করেন, এসকেলেটরটি ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করা হয়েছিল এবং ফার্স্ট লেডিকে তিনি টেনে সরিয়েছিলেন। তবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক সোমবার জানিয়েছেন, বিতর্কিত এসকেলেটরটি বারবার পরীক্ষা করা হয়েছে এবং টেলিপ্রম্পটার ব্যবহারের জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদলের সুবিধার জন্য আলাদা বুথ তৈরি করা হয়েছে, যাতে এবার কোনো সমস্যা না হয়।

সপ্তাহব্যাপী এই ভাষণপর্ব শুরু করবেন জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস, যিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার ও বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের বিষয়ে কথা বলবেন। ট্রাম্পের ঠিক আগে ভাষণ দেবেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থী প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া ট্রাম্পের সঙ্গে বামপন্থী লুলার সম্পর্ক উত্তপ্ত হতে পারে, বিশেষ করে লুলা তাকে ব্রাজিলের নির্বাচনে ‘হস্তক্ষেপ না করার’ আহ্বান জানানোর পর থেকে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতিসংঘে ভাষণে যুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরবেন ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১২:১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে যুদ্ধক্ষেত্রে ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের দাবি করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইরানের সঙ্গে তাঁর থমকে থাকা যুদ্ধ থেকে ছড়িয়ে পড়া সংকটের কারণে ভাষণটি গুরুত্বের দিক থেকে চাপা পড়ে যেতে পারে। ট্রাম্প তাঁর বহুল উচ্চারিত দাবির পুনরাবৃত্তি করে নিজেকে বিশ্বের ‘সবচেয়ে আলোচিত দেশের’ নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করবেন, যদিও এই যুদ্ধ হোয়াইট হাউসের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতির বিষয়টিও সামনে রয়েছে। নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরতে ট্রাম্প গাজা সংঘাত অবসানে তাঁর বিতর্কিত উদ্যোগের সাফল্য এবং ইসরাইলের সঙ্গে আব্রাহাম চুক্তিতে আরও আরব দেশকে যুক্ত করার চলমান প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করতে পারেন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ড্যানিয়েল ফোর্তি বলেন, ট্রাম্প শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে নিজের অর্জন উদযাপন করার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান সামরিক অভিযানগুলোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বনেতারা ট্রাম্পের বক্তব্যে কী প্রতিক্রিয়া দেখাবেন, তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের শুরুতে দেওয়া এই মূল ভাষণটি বিশ্ব সংস্থাটির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নিয়মিত আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই তিনি জাতিসংঘ ও মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সমালোচনা করে আসছেন। যদিও গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন জাতিসংঘের বাজেটে ৭২৫ মিলিয়ন ডলার প্রদান করায় ভোটাধিকার হারানোর বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়ানো গেছে। এছাড়া গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতির বিষয়ে একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিয়ে ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে সংশয় দেখা দিতে পারে। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ট্রাম্প বারবার দিয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছে।

ভাষণপর্বের পাশাপাশি ট্রাম্প বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন, যার মধ্যে রয়েছেন ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রড্রিগেজ। রড্রিগেজের পূর্বসূরি নিকোলাস মাদুরোকে জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী আটক করার পর থেকে তিনি তীব্র মার্কিন চাপের মধ্যে সরকার পরিচালনা করছেন।

গত বছর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এসকেলেটর বন্ধ হওয়া এবং টেলিপ্রম্পটারে ত্রুটির ঘটনা নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ এখনো স্পষ্ট। ওভাল অফিসে গত সপ্তাহে তিনি দাবি করেন, এসকেলেটরটি ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করা হয়েছিল এবং ফার্স্ট লেডিকে তিনি টেনে সরিয়েছিলেন। তবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক সোমবার জানিয়েছেন, বিতর্কিত এসকেলেটরটি বারবার পরীক্ষা করা হয়েছে এবং টেলিপ্রম্পটার ব্যবহারের জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদলের সুবিধার জন্য আলাদা বুথ তৈরি করা হয়েছে, যাতে এবার কোনো সমস্যা না হয়।

সপ্তাহব্যাপী এই ভাষণপর্ব শুরু করবেন জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস, যিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার ও বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের বিষয়ে কথা বলবেন। ট্রাম্পের ঠিক আগে ভাষণ দেবেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থী প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া ট্রাম্পের সঙ্গে বামপন্থী লুলার সম্পর্ক উত্তপ্ত হতে পারে, বিশেষ করে লুলা তাকে ব্রাজিলের নির্বাচনে ‘হস্তক্ষেপ না করার’ আহ্বান জানানোর পর থেকে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin