ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য পোর্টালে এআই এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশ, তীব্র উদ্বেগ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ নতুন রোগী এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর ক্রিকেটার রবিন দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, আদালতে হাজিরা ৯ অক্টোবর বিকাশ, রবিসহ ৪ ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক শাহ আলীতে পলিথিন ব্যাগ থেকে নবজাতক উদ্ধার, ৯৯৯-এ ফোন সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা রাজশাহীতে মাদকাসক্ত ছেলের হাসুয়ার কোপে মা নিহত, বাবা আহত সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত গোবিপ্রবির ৫ শিক্ষার্থী মক্কা-জেদ্দাসহ সৌদির বিভিন্ন এলাকায় সিভিল ডিফেন্সের সতর্কতা জারি

মস্কোয় ড্রোন হামলার জেরে কিয়েভে ব্যাপক হামলার হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মস্কো ও তার আশপাশের এলাকায় ইউক্রেনের বড় ধরনের ড্রোন হামলার পর কিয়েভে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলার জবাবে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে ‘আরও তীব্র ও ব্যাপক’ হামলা চালানো হবে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর মস্কো ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে এই বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, তারা প্রায় ১ হাজার ৬০০টি ড্রোন প্রতিহত বা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫০টি ড্রোন সরাসরি রাজধানীকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া এসব ড্রোন ধ্বংসের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এই হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে রুশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া হামলার কারণে মস্কোর একটি তেল শোধনাগারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের শেষ দিনে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়। ক্রেমলিনের দাবি, রাশিয়ার নির্বাচনি কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানোর উদ্দেশ্যেই ইউক্রেন এই হামলা চালিয়েছে, যদিও হামলার পরও voteগ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়নি। অন্যদিকে, ইউক্রেন রাশিয়ার দখলে থাকা নিজেদের অঞ্চলগুলোতে এই নির্বাচন আয়োজনকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে অভিহিত করেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার প্রশংসা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, হামলাটিতে ইউক্রেনে তৈরি দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে ‘পেলিকান’ ড্রোন এবং ‘ফ্লেমিংগো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র অন্যতম। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এসব হামলায় রাশিয়ার তেল পরিশোধন সক্ষমতার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপরও প্রভাব পড়েছে。

এদিকে, কিয়েভও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্রমাগত রুশ হামলার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোনের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে নিয়মিত বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হচ্ছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, যুদ্ধক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না পেয়ে রাশিয়া এখন দেশটির অর্থনীতি ও অবকাঠামো ধ্বংস করতে চাইছে। শীতকাল ঘনিয়ে আসার মুখে বিদ্যুৎকেন্দ্র, বন্দর ও পরিবহন ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে রুশ হামলা নিয়ে কিয়েভ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন জেলেনস্কি। এই বৈঠকে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করেছেন যে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাশিয়া ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশের সামরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করার চেষ্টা করতে পারে। তবে বাল্টিক অঞ্চলের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক কোনো রুশ হামলার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়ার কথা জানাননি।

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ০৪আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ২৫

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

মস্কোয় ড্রোন হামলার জেরে কিয়েভে ব্যাপক হামলার হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

আপডেট সময় : ১২:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মস্কো ও তার আশপাশের এলাকায় ইউক্রেনের বড় ধরনের ড্রোন হামলার পর কিয়েভে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলার জবাবে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে ‘আরও তীব্র ও ব্যাপক’ হামলা চালানো হবে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর মস্কো ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে এই বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, তারা প্রায় ১ হাজার ৬০০টি ড্রোন প্রতিহত বা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫০টি ড্রোন সরাসরি রাজধানীকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া এসব ড্রোন ধ্বংসের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এই হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে রুশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া হামলার কারণে মস্কোর একটি তেল শোধনাগারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের শেষ দিনে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়। ক্রেমলিনের দাবি, রাশিয়ার নির্বাচনি কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানোর উদ্দেশ্যেই ইউক্রেন এই হামলা চালিয়েছে, যদিও হামলার পরও voteগ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়নি। অন্যদিকে, ইউক্রেন রাশিয়ার দখলে থাকা নিজেদের অঞ্চলগুলোতে এই নির্বাচন আয়োজনকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে অভিহিত করেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার প্রশংসা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, হামলাটিতে ইউক্রেনে তৈরি দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে ‘পেলিকান’ ড্রোন এবং ‘ফ্লেমিংগো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র অন্যতম। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এসব হামলায় রাশিয়ার তেল পরিশোধন সক্ষমতার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপরও প্রভাব পড়েছে。

এদিকে, কিয়েভও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্রমাগত রুশ হামলার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোনের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে নিয়মিত বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হচ্ছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, যুদ্ধক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না পেয়ে রাশিয়া এখন দেশটির অর্থনীতি ও অবকাঠামো ধ্বংস করতে চাইছে। শীতকাল ঘনিয়ে আসার মুখে বিদ্যুৎকেন্দ্র, বন্দর ও পরিবহন ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে রুশ হামলা নিয়ে কিয়েভ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন জেলেনস্কি। এই বৈঠকে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করেছেন যে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাশিয়া ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশের সামরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করার চেষ্টা করতে পারে। তবে বাল্টিক অঞ্চলের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক কোনো রুশ হামলার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়ার কথা জানাননি।

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ০৪আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ২৫

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh