হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় মিত্রদের কাছে সামরিক সহায়তা চাইছে সৌদি আরব
- আপডেট সময় : ০৩:২০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ইয়েমেনের ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক দিনগুলোয় সৌদি আরবের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে। এসব হামলার মুখে রিয়াদ এখন টালমাটাল অবস্থায় পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি আরব সরকার আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের দ্বারস্থ হয়েছে এবং তাদের কাছে অতিপ্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা চেয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওই কর্মকর্তারা জানান, সৌদি আরব ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের সঙ্গে সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করেছে। রিয়াদের মূল লক্ষ্য হলো, হুতি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ নিশ্চিত করা। সৌদি আরবের প্রধান মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র হলেও, গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা টানা যুদ্ধের জেরে তারাও এখন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের সংকটে ভুগছে। এ কারণে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের মুখাপেক্ষী না থেকে অন্যান্য দেশের কাছে সহায়তা চাইছে বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
সৌদি আরব বর্তমানে হুতিদের প্রধান নিশানা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির প্রধান আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইরান হুতিদের সমর্থন দিচ্ছে। শুধু সামরিক সহায়তা নয়, নিরাপদ পথে জ্বালানি তেল রপ্তানির উপায় খোঁজাটাও রিয়াদের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনোটিরই আপাত সহজ সমাধান দেখা যাচ্ছে না। এদিকে, সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার দিকে হুতিরা ড্রোন ছুড়েছে বলে অভিযোগ করেছে রিয়াদ। যদিও হুতিরা ইয়েমেনের সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার বা ৬৮০ মাইল দূরের এই পবিত্র নগরীতে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এর মধ্যেই হুতিরা ইয়েমেনের আকাশে সৌদি আরবের একটি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে এবং ধ্বংসাবশেষের ছবিও প্রকাশ করেছে।
তুরস্ক ও পাকিস্তান সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে ‘মক্কা চুক্তি’ নামে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। তবে পাকিস্তান ও তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুতিকে প্রতিহত করতে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাদের কাছে সরাসরি কোনো অনুরোধ আসেনি। এদিকে, লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালির কয়েকটি দ্বীপ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় জ্বালানি তেল রপ্তানি নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি কার্যত বন্ধ থাকায় বাব আল-মানদেব ছিল সৌদি আরবের প্রধান বিকল্প। এই সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের সঙ্গেও সরাসরি আলোচনা করেছে। সৌদি আরবের সামরিক হস্তক্ষেপের অনুরোধের বিষয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সৌদি বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এছাড়া গত সপ্তাহে জার্মানিতে আটটি দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে মিত্র দেশগুলো সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের চেয়ে কূটনৈতিক সহায়তার দিকেই বেশি আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।

























