তেলের সরবরাহ ব্যাহত, বিকল্প উৎসের খোঁজে ইউরোপের ক্রেতারা
- আপডেট সময় : ১০:২৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনার পর দেশটিতে থেকে ইউরোপে তেল সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর এই পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে লোহিত সাগরমুখী তেল রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাবে সেপ্টেম্বর মাসে ইউরোপের জন্য নির্ধারিত অপরিশোধিত তেলের বেশ কয়েকটি চালান বাতিল করেছে সৌদি আরব এবং লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল ওঠানোর প্রক্রিয়াও স্থগিত রাখা হয়েছে।
তেল বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব ইউরোপীয় ক্রেতাদের চালান বাতিলের বিষয়টি অবহিত করে। তবে ঠিক কতগুলো চালান বাতিল হয়েছে বা ইয়ানবু বন্দর থেকে রপ্তানি কতদিন বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। এই পরিস্থিতির ফলে ইউরোপের বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়েছে। ব্রেন্ট ফিউচার প্রায় ১০৮ ডলার এবং ইউরোপের স্পট বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ডেটেড ব্রেন্ট প্রায় ১২২ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
সৌদি আরবের এই সংকটের ফলে পোল্যান্ডের জ্বালানি কোম্পানি অরলেন দ্রুত বিকল্প উৎসের সন্ধান শুরু করেছে। ২০২২ সাল থেকে সৌদি আরামকো অরলেনের প্রধান তেল সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করছিল এবং বর্তমানে কোম্পানিটির মোট সরবরাহের প্রায় ৪০ শতাংশ সৌদি আরব থেকে আসে। রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌদি সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে কোম্পানিটির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। অরলেন জানিয়েছে, শোধনাগারগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে তারা ১১ ও ১৪ সেপ্টেম্বর স্পট টেন্ডারের মাধ্যমে উত্তর সাগরের গ্রানে, ইয়োহান সেভেরড্রুপ, ইয়োহান ক্যাস্টবার্গ, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই মিডল্যান্ড এবং কাজাখস্তানের সিপিসি ব্লেন্ড তেল সংগ্রহ করেছে।
বর্তমানে পোল্যান্ডের গদানস্ক বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল এবং লিথুয়ানিয়ার বুটিঞ্জে বন্দর দিয়ে প্রায় ৬৩ হাজার ব্যারেল সৌদি অপরিশোধিত তেল আসে। অরলেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের শোধনাগারগুলোতে কাঁচামাল সরবরাহ বর্তমানে বিঘ্নহীন রয়েছে। এদিকে, বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, এই হামলার পর সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে, যেমনটি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাক বর্তমানে তাদের ‘ডার্ক শিপমেন্ট’ বা ট্র্যাকিংয়ের বাইরের চালানের মাধ্যমে করছে। এর মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলো যুদ্ধের আগের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হচ্ছে। তবে সৌদি আরবের রপ্তানি পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়।
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ১৯আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ২৪



























