ঢাকা ০৫:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-জেদ্দাসহ সৌদির বিভিন্ন এলাকায় সিভিল ডিফেন্সের সতর্কতা জারি আ.লীগ ফিরলে জামায়াত নেতাদের আবারও ফাঁসি দেবে: রাশেদ খাঁন মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা ইসলামের চিরন্তন শিক্ষা এমপি গাজী নজরুল আবারও রিমান্ডে, এবার ৪ দিনের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করে নিপীড়িত হয়েছেন রুহুল আমিন গাজী: রিজভী তুরস্কের শানলিউরফায় ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত ইসলামাবাদে পিটিআইয়ের মিছিল ঘিরে দেশজুড়ে ধরপাকড় ও কড়াকড়ি ৫১তম বিসিএসে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, আবেদন শুরু ১ অক্টোবর জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা: নিহত ৪, পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে গোলাবারুদের তীব্র ঘাটতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৫০:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইরানের বিরুদ্ধে ব্যয়বহুল যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে গোলাবারুদের বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেল সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন।

কংগ্রেসে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (ওইএফ)-তে যুক্তরাষ্ট্রের আনুমানিক ৩৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গোলাবারুদের পেছনেই খরচ হয়েছে ২২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। এই ব্যাপক ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মজুতে ঘাটতি পড়ার পাশাপাশি দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের বাধা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদনে যুদ্ধের ফলে মার্কিন সামরিক বহরের ক্ষয়ক্ষতির একটি চিত্রও উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, এ পর্যন্ত চারটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে এবং একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সাতটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও প্রতিবেদনে এসেছে। এতে বলা হয়, যুদ্ধের সময় ইরানের হামলায় কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। তবে এসব স্থাপনা পুনর্নির্মাণের ব্যয় এখনো মোট হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, কারণ পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত এবং ব্যয়ভার বহনের বিষয়টি এখনো অস্পষ্ট।

এর আগে সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, দূরপাল্লার নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলে প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের থাড ইন্টারসেপ্টরের মজুদের প্রায় ৮০ শতাংশই ব্যবহার করে ফেলেছে। এছাড়া সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ১ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই মাত্রার হামলা কমে এসেছে।

তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সময় অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও তিনি দাবি করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘সীমাহীন’ গোলাবারুদ রয়েছে। সোমবার নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি পুনরায় দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তার ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন আরও উন্নত ও অত্যাধুনিক অস্ত্র উৎপাদন করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে গোলাবারুদের তীব্র ঘাটতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০৯:৫০:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে ব্যয়বহুল যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে গোলাবারুদের বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেল সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন।

কংগ্রেসে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (ওইএফ)-তে যুক্তরাষ্ট্রের আনুমানিক ৩৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গোলাবারুদের পেছনেই খরচ হয়েছে ২২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। এই ব্যাপক ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মজুতে ঘাটতি পড়ার পাশাপাশি দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের বাধা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদনে যুদ্ধের ফলে মার্কিন সামরিক বহরের ক্ষয়ক্ষতির একটি চিত্রও উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, এ পর্যন্ত চারটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে এবং একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সাতটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও প্রতিবেদনে এসেছে। এতে বলা হয়, যুদ্ধের সময় ইরানের হামলায় কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। তবে এসব স্থাপনা পুনর্নির্মাণের ব্যয় এখনো মোট হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, কারণ পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত এবং ব্যয়ভার বহনের বিষয়টি এখনো অস্পষ্ট।

এর আগে সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, দূরপাল্লার নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলে প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের থাড ইন্টারসেপ্টরের মজুদের প্রায় ৮০ শতাংশই ব্যবহার করে ফেলেছে। এছাড়া সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ১ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই মাত্রার হামলা কমে এসেছে।

তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সময় অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও তিনি দাবি করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘সীমাহীন’ গোলাবারুদ রয়েছে। সোমবার নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি পুনরায় দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তার ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন আরও উন্নত ও অত্যাধুনিক অস্ত্র উৎপাদন করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin