ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর ক্রিকেটার রবিন দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, আদালতে হাজিরা ৯ অক্টোবর বিকাশ, রবিসহ ৪ ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক শাহ আলীতে পলিথিন ব্যাগ থেকে নবজাতক উদ্ধার, ৯৯৯-এ ফোন সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা রাজশাহীতে মাদকাসক্ত ছেলের হাসুয়ার কোপে মা নিহত, বাবা আহত সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত গোবিপ্রবির ৫ শিক্ষার্থী মক্কা-জেদ্দাসহ সৌদির বিভিন্ন এলাকায় সিভিল ডিফেন্সের সতর্কতা জারি আ.লীগ ফিরলে জামায়াত নেতাদের আবারও ফাঁসি দেবে: রাশেদ খাঁন মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা ইসলামের চিরন্তন শিক্ষা

মধ্যপ্রাচ্যের চোরাবালিতে ট্রাম্প, লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:০৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তার মিত্রদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ছয় মাস পার হলেও সংকটের কোনো সমাধান দেখছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং ইয়েমেন ও ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সাম্প্রতিক তৎপরতায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনকে এক গভীর চোরাবালিতে ফেলে দিয়েছে।

গত শুক্রবার বিশ্বের অন্যতম প্রধান দুটি নৌপথ—পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগরের মুখে বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি ইরানের এবং বাব আল-মান্দাব ইয়েমেনের হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই দিনে ইরাকের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলা চালায়। হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প হিসেবে এই পাইপলাইন দিয়ে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল সৌদি আরব, যা এখন নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বোমাবর্ষণ শুরু হওয়ার আগের দিন অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের কিছু বেশি। তবে গত শুক্রবার তা সাময়িকভাবে লাফিয়ে ১১০ ডলারে পৌঁছায়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে; যুদ্ধ শুরুর সময়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থাকলেও তা বেড়ে এখন ৪ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো ক্রমাগত হামলার ঝুঁকিতে থাকায় ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। এই কৌশলের অংশ হিসেবে তারা ‘অপারেশন ইকোনমিকアウトキャスト’ (অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট) নামের একটি নতুন উদ্যোগ শুরু করেছে।

যদিও মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতিতে তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে—যেখানে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে—তবুও তেহরানের বর্তমান शासनব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। উল্টো ইয়েমেনে হুথিদের মোখা বন্দর দখল এবং ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় হামলার মতো সাম্প্রতিক সামরিক সাফল্যগুলো মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার যে লক্ষ্য নিয়ে ওয়াশিংটন অভিযান শুরু করেছিল, ছয় মাসেরও বেশি সময় পর পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এই সংকটকে আরও কঠিন ও বহুমাত্রিক করে তুলেছে।

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৫১আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ০৪

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যের চোরাবালিতে ট্রাম্প, লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম

আপডেট সময় : ০৪:০৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তার মিত্রদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ছয় মাস পার হলেও সংকটের কোনো সমাধান দেখছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং ইয়েমেন ও ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সাম্প্রতিক তৎপরতায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনকে এক গভীর চোরাবালিতে ফেলে দিয়েছে।

গত শুক্রবার বিশ্বের অন্যতম প্রধান দুটি নৌপথ—পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগরের মুখে বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি ইরানের এবং বাব আল-মান্দাব ইয়েমেনের হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই দিনে ইরাকের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলা চালায়। হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প হিসেবে এই পাইপলাইন দিয়ে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল সৌদি আরব, যা এখন নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বোমাবর্ষণ শুরু হওয়ার আগের দিন অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের কিছু বেশি। তবে গত শুক্রবার তা সাময়িকভাবে লাফিয়ে ১১০ ডলারে পৌঁছায়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে; যুদ্ধ শুরুর সময়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থাকলেও তা বেড়ে এখন ৪ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো ক্রমাগত হামলার ঝুঁকিতে থাকায় ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। এই কৌশলের অংশ হিসেবে তারা ‘অপারেশন ইকোনমিকアウトキャスト’ (অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট) নামের একটি নতুন উদ্যোগ শুরু করেছে।

যদিও মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতিতে তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে—যেখানে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে—তবুও তেহরানের বর্তমান शासनব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। উল্টো ইয়েমেনে হুথিদের মোখা বন্দর দখল এবং ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় হামলার মতো সাম্প্রতিক সামরিক সাফল্যগুলো মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার যে লক্ষ্য নিয়ে ওয়াশিংটন অভিযান শুরু করেছিল, ছয় মাসেরও বেশি সময় পর পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এই সংকটকে আরও কঠিন ও বহুমাত্রিক করে তুলেছে।

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৫১আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ০৪

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh