ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরলে কিছু হবে না’ মন্তব্য করা ওসি রাকিবুল গ্রেপ্তার অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য পোর্টালে এআই এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশ, তীব্র উদ্বেগ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ নতুন রোগী এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর ক্রিকেটার রবিন দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, আদালতে হাজিরা ৯ অক্টোবর বিকাশ, রবিসহ ৪ ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক শাহ আলীতে পলিথিন ব্যাগ থেকে নবজাতক উদ্ধার, ৯৯৯-এ ফোন সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা রাজশাহীতে মাদকাসক্ত ছেলের হাসুয়ার কোপে মা নিহত, বাবা আহত সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত গোবিপ্রবির ৫ শিক্ষার্থী

জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থীদের জয়, ইউরোপের রাজনীতি কি বড় বদলের মুখে?

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:১৫:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) এক বড় জয় পেয়েছে। গত রোববারের এই নির্বাচনী ফলের প্রভাব শুধু জার্মানি নয়, বরং লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিট থেকে প্যারিসের এলিসি প্রাসাদ পর্যন্ত পুরো ইউরোপেই অনুভূত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্যাক্সনি-আনহাল্টের এই আঞ্চলিক ফল ইউরোপের গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নাৎসিবাদের অন্ধকার ইতিহাসের পর জার্মানি সবসময়ই কট্টর ডানপন্থীদের ক্ষমতার বাইরে রাখতে চেয়েছে। তবে এই জয় কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং গত এক দশক ধরে ইউরোপজুড়ে কট্টর ডানপন্থীদের সমর্থন বাড়ার ধারাবাহিকতারই অংশ।

আগামী বছর ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এএফডির এই সাফল্য অন্যান্য দেশের কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা এবং জয়ের আগাম বার্তা হতে পারে। ইউরেশিয়া গ্রুপের ইউরোপবিষয়ক বিশ্লেষক মুজতবা রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, উন্নত ইউরোপ এখন এক ধরনের জটিল রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকারগুলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও উদ্বেগের সমাধান করতে পারছে না এবং ভোটারদের চাহিদাও পূরণ হচ্ছে না। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনের জাতীয়তাবাদী নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে এএফডির অভিবাসনবিরোধী ও জনতুষ্টিবাদী সুরের মিল রয়েছে, যা এসব দেশের অসন্তুষ্ট ভোটারদের আকৃষ্ট করছে।

জার্মানিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও উচ্চ বেকারত্ব এএফডির এই বিপুল বিজয়ে মূল ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচনে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ভোট পেয়েছে এএফডি। অবশ্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে সামান্য পিছিয়ে থাকায় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে শেষ পর্যন্ত হয়তো এএফডি সরকার গঠন করতে পারবে না। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য দলগুলো আগেই জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এএফডির সঙ্গে কোনো জোটে যাবে না। দলটির কতিপয় নেতার বিরুদ্ধে নাৎসি স্লোগান ব্যবহার এবং হলোকাস্টের গুরুত্ব খাটো করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অভিবাসী পরিবারের জার্মানদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে উপস্থাপন করায় জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থা এএফডিকে ‘সন্দেহভাজন উগ্রপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

তা সত্ত্বেও এই নির্বাচনী ফল চ্যান্সেলর মের্ৎসকে বেশ ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। নিজের দলের ভেতরেই এই পরাজয়ের দায় তাঁর ওপর চাপানো হতে পারে, যা তাঁর নেতৃত্বকে আরও দুর্বল করবে। মুজতবা রহমান বলেন, যখন একজন জার্মান চ্যান্সেলর নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হিমশিম খান এবং অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তখন জার্মানি দুর্বল হয়ে পড়ে, যা ইউরোপের সামগ্রিক সংকট মোকাবিলার সামর্থ্যকেও কমিয়ে দেয়। বর্তমানে ইউরোপীয় ভোটারদের মধ্যে একটি বড় বিভাজন দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ মনে করে কট্টর ডানপন্থীরা ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্ব হবে। অন্য পক্ষ মনে করে, সাধারণ মানুষের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন অভিজাতদের বিরুদ্ধে কট্টর ডানপন্থীরাই জাতীয় পরিচয় ও জীবিকা রক্ষা করতে পারে।

ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও মধ্যপন্থীদের উদ্বেগ বাড়ছে। আগামী বসন্তে বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বিদায় নেবেন। সেখানে কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‌্যালির প্রার্থী মারিন লো পেন প্রথম ও দ্বিতীয় দফার জনমত জরিপে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করা লো পেন এবার ক্ষমতার সবচেয়ে কাছাকাছি রয়েছেন। মুজতবা রহমানের মতে, ফ্রান্সের মতো একটি পরমাণু শক্তিধর এবং ইইউ-এর প্রতিষ্ঠাতা দেশে কট্টর ডানপন্থী সরকার গঠিত হলে পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়ন অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে চলে আসা ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য বা ‘কর্দোঁ সানিতের’ নীতি ভেঙে পড়তে পারে, যার অধীনে মূলধারার দলগুলো কট্টর ডানপন্থীদের সঙ্গে জোট গঠন এড়াত। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ফরাসি ও ইউরোপীয় রাজনীতির অধ্যাপক ফিলিপ মারলিয়ে বলেন, দুই দেশেই এই ঐতিহাসিক ঐক্য এখন ভেঙে পড়ার মুখে।

এদিকে স্পেনেও পরবর্তী জোট সরকারে কট্টর ডানপন্থী ভক্স পার্টি জায়গা করে নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সেখানে দুর্নীতি ও অভিবাসন সংকটের কারণে ক্ষমতাসীন সমাজতন্ত্রীদের ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে। যুক্তরাজ্যে কট্টর ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের জনপ্রিয়তার কারণে গত জুলাইয়ে লেবার পার্টি তাদের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে সরিয়ে অ্যান্ডি বার্নহামকে দায়িত্ব দেয়। তবে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠায় এবং দলের অসন্তুষ্ট সদস্য রুপার্ট লো দল ছেড়ে আরও ডানপন্থী নতুন দল গঠন করায় ফারাজের অগ্রযাত্রা কিছুটা থমকে গেছে। কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের রাজনীতির অধ্যাপক টিমোথি বেল মনে করেন, তীব্র প্রতিযোগিতা ও আর্থিক অনিয়মের প্রশ্নের কারণে ফারাজের পক্ষে সরকার গঠনের মতো সমর্থন পাওয়া কঠিন হবে। অন্যদিকে, গত এপ্রিলে হাঙ্গেরিতে ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর কট্টর ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর অরবানের ফিদেস পার্টির পরাজয় মূলধারার রাজনীতিকদের আশাবাদী করেছে যে কট্টর ডানপন্থীদেরও নির্বাচনে হারানো সম্ভব।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির দল নব্য ফ্যাসিবাদী শিকড় থেকে উঠে এলেও ক্ষমতায় এসে তিনি ইউক্রেন ও ইইউ বিষয়ে নরম অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর সরকার ইতালির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড গড়েছে। তবে তাঁর চেয়েও ডানপন্থী নেতা রবার্তো ভান্নাচ্চির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় মেলোনিকে আবারও অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হচ্ছে। যেমন, গত জুলাইয়ের শেষে মরক্কো থেকে স্পেনের ভূখণ্ডে অভিবাসীদের প্রবেশের ঘটনায় তিনি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের কড়া সমালোচনা করেন। অধ্যাপক টিমোথি বেল বলেন, এএফডি বা এ ধরনের দল ক্ষমতায় এলে কতটা দক্ষতার সাথে সরকার চালাতে পারে, তার ওপরই মূলধারার দলগুলোর উদ্বেগের মাত্রা নির্ভর করবে। ইউরোপের মধ্যপন্থীরা এখন আশা করছেন যে ভোটাররা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে শিক্ষা নেবেন। মুজতবা রহমান বলেন, মধ্যপন্থীদের আশা—ভোটাররা বুঝবেন যে মূলধারার বাইরের দল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মধ্যে বড় ধরনের ভুল করার ঝুঁকি থাকে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থীদের জয়, ইউরোপের রাজনীতি কি বড় বদলের মুখে?

আপডেট সময় : ০৩:১৫:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) এক বড় জয় পেয়েছে। গত রোববারের এই নির্বাচনী ফলের প্রভাব শুধু জার্মানি নয়, বরং লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিট থেকে প্যারিসের এলিসি প্রাসাদ পর্যন্ত পুরো ইউরোপেই অনুভূত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্যাক্সনি-আনহাল্টের এই আঞ্চলিক ফল ইউরোপের গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নাৎসিবাদের অন্ধকার ইতিহাসের পর জার্মানি সবসময়ই কট্টর ডানপন্থীদের ক্ষমতার বাইরে রাখতে চেয়েছে। তবে এই জয় কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং গত এক দশক ধরে ইউরোপজুড়ে কট্টর ডানপন্থীদের সমর্থন বাড়ার ধারাবাহিকতারই অংশ।

আগামী বছর ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এএফডির এই সাফল্য অন্যান্য দেশের কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা এবং জয়ের আগাম বার্তা হতে পারে। ইউরেশিয়া গ্রুপের ইউরোপবিষয়ক বিশ্লেষক মুজতবা রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, উন্নত ইউরোপ এখন এক ধরনের জটিল রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকারগুলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও উদ্বেগের সমাধান করতে পারছে না এবং ভোটারদের চাহিদাও পূরণ হচ্ছে না। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনের জাতীয়তাবাদী নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে এএফডির অভিবাসনবিরোধী ও জনতুষ্টিবাদী সুরের মিল রয়েছে, যা এসব দেশের অসন্তুষ্ট ভোটারদের আকৃষ্ট করছে।

জার্মানিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও উচ্চ বেকারত্ব এএফডির এই বিপুল বিজয়ে মূল ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচনে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ভোট পেয়েছে এএফডি। অবশ্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে সামান্য পিছিয়ে থাকায় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে শেষ পর্যন্ত হয়তো এএফডি সরকার গঠন করতে পারবে না। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য দলগুলো আগেই জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এএফডির সঙ্গে কোনো জোটে যাবে না। দলটির কতিপয় নেতার বিরুদ্ধে নাৎসি স্লোগান ব্যবহার এবং হলোকাস্টের গুরুত্ব খাটো করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অভিবাসী পরিবারের জার্মানদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে উপস্থাপন করায় জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থা এএফডিকে ‘সন্দেহভাজন উগ্রপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

তা সত্ত্বেও এই নির্বাচনী ফল চ্যান্সেলর মের্ৎসকে বেশ ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। নিজের দলের ভেতরেই এই পরাজয়ের দায় তাঁর ওপর চাপানো হতে পারে, যা তাঁর নেতৃত্বকে আরও দুর্বল করবে। মুজতবা রহমান বলেন, যখন একজন জার্মান চ্যান্সেলর নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হিমশিম খান এবং অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তখন জার্মানি দুর্বল হয়ে পড়ে, যা ইউরোপের সামগ্রিক সংকট মোকাবিলার সামর্থ্যকেও কমিয়ে দেয়। বর্তমানে ইউরোপীয় ভোটারদের মধ্যে একটি বড় বিভাজন দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ মনে করে কট্টর ডানপন্থীরা ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্ব হবে। অন্য পক্ষ মনে করে, সাধারণ মানুষের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন অভিজাতদের বিরুদ্ধে কট্টর ডানপন্থীরাই জাতীয় পরিচয় ও জীবিকা রক্ষা করতে পারে।

ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও মধ্যপন্থীদের উদ্বেগ বাড়ছে। আগামী বসন্তে বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বিদায় নেবেন। সেখানে কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‌্যালির প্রার্থী মারিন লো পেন প্রথম ও দ্বিতীয় দফার জনমত জরিপে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করা লো পেন এবার ক্ষমতার সবচেয়ে কাছাকাছি রয়েছেন। মুজতবা রহমানের মতে, ফ্রান্সের মতো একটি পরমাণু শক্তিধর এবং ইইউ-এর প্রতিষ্ঠাতা দেশে কট্টর ডানপন্থী সরকার গঠিত হলে পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়ন অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে চলে আসা ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য বা ‘কর্দোঁ সানিতের’ নীতি ভেঙে পড়তে পারে, যার অধীনে মূলধারার দলগুলো কট্টর ডানপন্থীদের সঙ্গে জোট গঠন এড়াত। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ফরাসি ও ইউরোপীয় রাজনীতির অধ্যাপক ফিলিপ মারলিয়ে বলেন, দুই দেশেই এই ঐতিহাসিক ঐক্য এখন ভেঙে পড়ার মুখে।

এদিকে স্পেনেও পরবর্তী জোট সরকারে কট্টর ডানপন্থী ভক্স পার্টি জায়গা করে নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সেখানে দুর্নীতি ও অভিবাসন সংকটের কারণে ক্ষমতাসীন সমাজতন্ত্রীদের ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে। যুক্তরাজ্যে কট্টর ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের জনপ্রিয়তার কারণে গত জুলাইয়ে লেবার পার্টি তাদের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে সরিয়ে অ্যান্ডি বার্নহামকে দায়িত্ব দেয়। তবে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠায় এবং দলের অসন্তুষ্ট সদস্য রুপার্ট লো দল ছেড়ে আরও ডানপন্থী নতুন দল গঠন করায় ফারাজের অগ্রযাত্রা কিছুটা থমকে গেছে। কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের রাজনীতির অধ্যাপক টিমোথি বেল মনে করেন, তীব্র প্রতিযোগিতা ও আর্থিক অনিয়মের প্রশ্নের কারণে ফারাজের পক্ষে সরকার গঠনের মতো সমর্থন পাওয়া কঠিন হবে। অন্যদিকে, গত এপ্রিলে হাঙ্গেরিতে ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর কট্টর ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর অরবানের ফিদেস পার্টির পরাজয় মূলধারার রাজনীতিকদের আশাবাদী করেছে যে কট্টর ডানপন্থীদেরও নির্বাচনে হারানো সম্ভব।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির দল নব্য ফ্যাসিবাদী শিকড় থেকে উঠে এলেও ক্ষমতায় এসে তিনি ইউক্রেন ও ইইউ বিষয়ে নরম অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর সরকার ইতালির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড গড়েছে। তবে তাঁর চেয়েও ডানপন্থী নেতা রবার্তো ভান্নাচ্চির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় মেলোনিকে আবারও অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হচ্ছে। যেমন, গত জুলাইয়ের শেষে মরক্কো থেকে স্পেনের ভূখণ্ডে অভিবাসীদের প্রবেশের ঘটনায় তিনি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের কড়া সমালোচনা করেন। অধ্যাপক টিমোথি বেল বলেন, এএফডি বা এ ধরনের দল ক্ষমতায় এলে কতটা দক্ষতার সাথে সরকার চালাতে পারে, তার ওপরই মূলধারার দলগুলোর উদ্বেগের মাত্রা নির্ভর করবে। ইউরোপের মধ্যপন্থীরা এখন আশা করছেন যে ভোটাররা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে শিক্ষা নেবেন। মুজতবা রহমান বলেন, মধ্যপন্থীদের আশা—ভোটাররা বুঝবেন যে মূলধারার বাইরের দল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মধ্যে বড় ধরনের ভুল করার ঝুঁকি থাকে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo