ঢাকা ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিবগঞ্জে বাল্যবিয়ে থেকে বাঁচলেন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী, পাশে ইউএনও ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরলে কিছু হবে না’ মন্তব্য করা ওসি রাকিবুল গ্রেপ্তার অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য পোর্টালে এআই এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশ, তীব্র উদ্বেগ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ নতুন রোগী এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর ক্রিকেটার রবিন দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, আদালতে হাজিরা ৯ অক্টোবর বিকাশ, রবিসহ ৪ ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক শাহ আলীতে পলিথিন ব্যাগ থেকে নবজাতক উদ্ধার, ৯৯৯-এ ফোন সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা রাজশাহীতে মাদকাসক্ত ছেলের হাসুয়ার কোপে মা নিহত, বাবা আহত

ইরানি ৩ তেল ট্যাংকারে মার্কিন হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার জবাবে ইরানের সঙ্গে যুক্ত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে পাল্টা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই ঘটনার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জানায়, তিনটি ট্যাংকারের মধ্যে একটি খার্গ দ্বীপের কাছে, একটি হরমুজ প্রণালির কাছে এবং অন্যটি ওমান উপসাগরে হামলার শিকার হয়েছে। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, খার্গ দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালির কাছে থাকা দুটি ট্যাংকারকে ‘স্থায়ীভাবে অচল’ করে দেওয়া হয়েছে এবং অন্য ট্যাংকারটি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হয়েছে।

সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আইআরজিসির জন্য বার্তা স্পষ্ট—আপনারা যদি আমাদের দুটি জাহাজে হামলা করেন, তাহলে আমরা আপনাদের তিনটি জাহাজ ধ্বংস করে আরও বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি করব।’ তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপের কাছে নোঙর করা একটি ট্যাংকারে চারটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে তারা জানায়, ট্যাংকারটির নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছিল। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, আইআরজিসি মার্কিন একটি বিমানবাহী রণতরি ও একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছিল। তবে মার্কিন বাহিনী সেসব হামলা এড়াতে সক্ষম হয় এবং কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।

এই তিনটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে, কারণ খার্গ দ্বীপ ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র। চলমান যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের মাধ্যমেই রপ্তানি হতো। তবে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দেশটির তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে。

এর আগে গত ৩১ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, খার্গ দ্বীপ ‘উড়িয়ে দেওয়া’ হতে পারে। জুন মাসেও তিনি এই দ্বীপটি দখলের কথা বলেছিলেন, যদিও পরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার কথা জানান। খার্গ দ্বীপে বড় ধরনের হামলা হলে ইরানের তেল শিল্প ও অর্থনীতির ওপর যেমন বড় চাপ তৈরি হবে, তেমনি বিশ্ববাজারেও তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিতে পারে।

দুই দেশের সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আগে থেকেই বাড়ছে। বিশেষ করে ইরান হরমুজ প্রণালিতে কার্যত নৌ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। এই উত্তেজনার মধ্যে গত শুক্রবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ২৮ ডলারে উঠে যায়, যা জুলাইয়ের ২৪ তারিখের পর সর্বোচ্চ।

গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা শুরু করলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। জবাবে ইরানও ইসরায়েল, মার্কিন ঘাঁটি এবং তাদের উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। দুই দেশের মধ্যে চলমান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি গত মাসে শেষ হওয়ার পর নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি, যার ফলে এই সর্বশেষ হামলার পর সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানি ৩ তেল ট্যাংকারে মার্কিন হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা

আপডেট সময় : ১০:৫৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার জবাবে ইরানের সঙ্গে যুক্ত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে পাল্টা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই ঘটনার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জানায়, তিনটি ট্যাংকারের মধ্যে একটি খার্গ দ্বীপের কাছে, একটি হরমুজ প্রণালির কাছে এবং অন্যটি ওমান উপসাগরে হামলার শিকার হয়েছে। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, খার্গ দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালির কাছে থাকা দুটি ট্যাংকারকে ‘স্থায়ীভাবে অচল’ করে দেওয়া হয়েছে এবং অন্য ট্যাংকারটি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হয়েছে।

সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আইআরজিসির জন্য বার্তা স্পষ্ট—আপনারা যদি আমাদের দুটি জাহাজে হামলা করেন, তাহলে আমরা আপনাদের তিনটি জাহাজ ধ্বংস করে আরও বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি করব।’ তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপের কাছে নোঙর করা একটি ট্যাংকারে চারটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে তারা জানায়, ট্যাংকারটির নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছিল। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, আইআরজিসি মার্কিন একটি বিমানবাহী রণতরি ও একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছিল। তবে মার্কিন বাহিনী সেসব হামলা এড়াতে সক্ষম হয় এবং কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।

এই তিনটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে, কারণ খার্গ দ্বীপ ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র। চলমান যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের মাধ্যমেই রপ্তানি হতো। তবে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দেশটির তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে。

এর আগে গত ৩১ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, খার্গ দ্বীপ ‘উড়িয়ে দেওয়া’ হতে পারে। জুন মাসেও তিনি এই দ্বীপটি দখলের কথা বলেছিলেন, যদিও পরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার কথা জানান। খার্গ দ্বীপে বড় ধরনের হামলা হলে ইরানের তেল শিল্প ও অর্থনীতির ওপর যেমন বড় চাপ তৈরি হবে, তেমনি বিশ্ববাজারেও তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিতে পারে।

দুই দেশের সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আগে থেকেই বাড়ছে। বিশেষ করে ইরান হরমুজ প্রণালিতে কার্যত নৌ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। এই উত্তেজনার মধ্যে গত শুক্রবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ২৮ ডলারে উঠে যায়, যা জুলাইয়ের ২৪ তারিখের পর সর্বোচ্চ।

গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা শুরু করলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। জবাবে ইরানও ইসরায়েল, মার্কিন ঘাঁটি এবং তাদের উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। দুই দেশের মধ্যে চলমান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি গত মাসে শেষ হওয়ার পর নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি, যার ফলে এই সর্বশেষ হামলার পর সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin