তিউনিসিয়ায় প্রেসিডেন্ট সাঈদের সমালোচক সাংবাদিক ইউসফি গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ১১:৪৩:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদের অন্যতম সমালোচক ও জ্যেষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোহাম্মদ ইউসফিকে গ্রেপ্তারের পর তাকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শনিবার আদালতের এই আদেশের পর তিউনিসিয়ায় গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জাতীয় সাংবাদিক ইউনিয়ন (এসএনজেটি) নিশ্চিত করেছে যে, শুক্রবার ‘এক্সপ্রেস এফএম’ রেডিওর একটি সরাসরি টকশোতে অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে রেডিও স্টেশনের সামনে থেকেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এসএনজেটির সভাপতি জিয়েদ দাব্বার এবং অনুষ্ঠানটির মূল উপস্থাপক ওয়ালিদ বেন রুমা জানান, গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ কোনো সুস্পষ্ট কারণ জানায়নি; বরং জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে তাকে দ্রুত থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
মোহাম্মদ ইউসফি প্রভাবশালী অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম 'আল-কাতিবা'র প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদের একনায়কতান্ত্রিক নীতি ও সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে আসছিলেন। তিউনিসিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিচার বিভাগীয় সূত্রের বরাতে দাবি করেছে, ইউসফির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা সংস্থা এসএনজেটি এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটি বলছে, আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ কেবল একটি অজুহাত মাত্র; মূলত ইউসফির অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং 'আল-কাতিবা'র নিরপেক্ষ ও সমালোচনামূলক অবস্থানই তাকে লক্ষ্যবস্তু করার মূল কারণ।
এসএনজেটির মতে, ইউসফির এই গ্রেপ্তার কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, বরং এটি উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর একটি বড় আঘাত। ২০২১ সালে পার্লামেন্ট মুলতবি করে প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদ ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর থেকেই সেখানে ভিন্নমত দমনে কঠোর পদক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ২০২২ সালে সাঈদ নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার পর গণমাধ্যমের বাকস্বাধীনতা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। চলতি বছরেই জিয়েদ হেনি, মুরাদ জঘিদি ও বোরহেন বসাইসের মতো শীর্ষস্থানীয় অনেক সাংবাদিককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট সাঈদ দেশে পূর্ণ গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা বিদ্যমান বলে দাবি করে আসছেন, কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, ২০১১ সালে জাইন আল-আবিদিন বেন আলির পতনের পর তিউনিসিয়ায় যে মুক্ত গণমাধ্যমের পরিবেশ গড়ে উঠেছিল, তা বর্তমানে বিলুপ্ত হতে বসেছে।




























