মতবিরোধের মধ্যেই শেষ হলো জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের দুই দিনের বৈঠক
- আপডেট সময় : ১২:০৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভের উপস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর তীব্র অসন্তোষের মধ্যেই জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের দুই দিনের সম্মেলন মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। সম্মেলনের সমাপনীতে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে চীন বাদে অংশগ্রহণকারী প্রায় সব দেশই পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, রাশিয়ার প্রতিনিধির উপস্থিতি আলোচনায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি এবং অধিকাংশ দেশের ঐকমত্যই এর প্রমাণ।
উত্তর ক্যারোলাইনার অ্যাশভিলে আয়োজিত এই সম্মেলনে সিলুয়ানভের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা শুরু থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতি বিষয়ক প্রধান ভালদিস ডোমব্রোভস্কিস সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেনে চলমান আগ্রাসী যুদ্ধের এই সময়ে রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংবেদনশীল অর্থনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করাটা স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়ার সময় এখনো আসেনি। কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেনও স্বীকার করেন যে, রাশিয়ার এই অংশগ্রহণ অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে।
সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতায়ও এই মতবিরোধ স্পষ্ট ছিল। সোমবার নেতাদের প্রচলিত ‘ফ্যামিলি ফটো’ বা দলগত ছবিতে রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী সিলুয়ানভকে রাখা হয়নি। এছাড়া চ্যাপেল হিলে আয়োজিত উদ্ভাবন বিষয়ক পৃথক বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের দুটি ভাগে ছবি তোলা হয়, যাতে ইউরোপীয় নেতারা রুশ প্রতিনিধি দল থেকে আলাদা থাকতে পারেন। ইইউর এক মুখপাত্র জানান, সিলুয়ানভের উপস্থিতির বিষয়টি প্রতিনিধিদের অনেক দেরিতে জানানো হয়েছিল।
এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট বলেন, কিছু ইউরোপীয় দেশের অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও যোগাযোগ ও আলোচনায় যুক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি যে রুশ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তিনি কোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় নেই। বর্তমানে জি-২০’র সভাপতির দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়ে মিত্র দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সভাপতির বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালীতে ‘অবাধ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নৌ চলাচল’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হলেও চীন এতে আপত্তি জানিয়েছে। এ ছাড়া জার্মানি গত মাসে দেশটির একটি বিমানবন্দরে কথিত ‘হাইব্রিড হামলা’ চালানোর চেষ্টার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে এবং পাল্টা কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।



























