মালয়েশিয়ায় যৌন চক্রের হদিস, বাংলাদেশি-থাই দম্পতিসহ আটক ২৬
- আপডেট সময় : ০৫:০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বিদেশি নারীদের দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। কুচাই লামা ও জালান গেলুগর এলাকায় চালানো এক বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশি-থাই দম্পতিসহ মোট ২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। দুই সপ্তাহের নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারির পর গত বুধবার রাতে এই অভিযান চালানো হয়।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে রয়েছেন একজন বাংলাদেশি পুরুষ ও একজন থাই নারী (যিনি ওই বাংলাদেশির স্ত্রী), একজন মালয়েশীয় নাগরিক, তিনজন মিয়ানমারের পুরুষ, তিনজন বাংলাদেশি নারী, ১৪ জন ইন্দোনেশীয় নারী, দুইজন ভিয়েতনামী নারী এবং একজন মিয়ানমারের নারী। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক বিদেশি নাগরিকদের কারোরই মালয়েশিয়ায় অবস্থানের জন্য বৈধ কোনো ভ্রমণ নথি বা পাস ছিল না।
অভিযান পরিচালনাকারী দল ঘটনাস্থল থেকে চারটি বাংলাদেশি, একটি থাই ও একটি ইন্দোনেশীয় পাসপোর্ট জব্দ করেছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন, কনডম এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত নগদ ১ হাজার ২১৫ রিঙ্গিত উদ্ধার করা হয়েছে। পুত্রজায়ায় ইমিগ্রেশন বিভাগের সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান শাখার বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা বুধবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে এই অভিযান শুরু করেন।
তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি একটি আবাসিক ও একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা ব্যবহার করে এই কার্যক্রম চালাচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে মূলত ক্লাং ভ্যালিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি প্রবাসীদের লক্ষ্য করে গ্রাহক আকৃষ্ট করা হতো। মূল হোতারা সেখানে কর্মরত নারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং তাদের পাসপোর্ট নিজেদের জিম্মায় রেখে দিতেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে আবাসিক স্থাপনাটিতে অত্যন্ত গোপনে কার্যক্রম চালানো হতো। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক স্থাপনাটির দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় এক মালয়েশীয় ব্যক্তি, যিনি সেখানে ‘ক্যাপ্টেন’ বা পাহারাদার হিসেবে কাজ করতেন।
ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক আরও জানান, ওই চক্রটি প্রায় দুই মাসে ধরে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। আবাসিক স্থাপনায় প্রতি ৬০ মিনিটের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে ২০০ রিঙ্গিত নেওয়া হতো। আর বাণিজ্যিক স্থাপনায় ৯০ মিনিটের সেবার জন্য গ্রাহকদের গুনতে হতো ২৬০ থেকে ৪০০ রিঙ্গিত।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত বাংলাদেশি-থাই দম্পতি এবং স্থানীয় ওই মালয়েশীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৫৬(১)(ডি) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাকি বিদেশিদের একই আইনের ৬(১)(সি) ধারায় আটক দেখিয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।



























