ইরানে পুলিশ হত্যার অভিযোগে আফগান তরুণের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
- আপডেট সময় : ১২:৪২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ কর্মকর্তা হত্যার অভিযোগে এক আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ইসফাহান প্রদেশের কেন্দ্রীয় কারাগারে কায়েম হোসেইনি নামের ২১ বছর বয়সী ওই তরুণের ফাঁসি কার্যকর করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার যে ধারাবাহিক ঘটনা ঘটছে, এটি তার মধ্যে ৩০তম।
ইরানের বিচার বিভাগের সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে চার পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে মিজান অনলাইন তার বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ না করে কেবল একজন বিদেশি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্য দিকে, নরওয়েভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) নিশ্চিত করেছে যে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই তরুণ আফগানিস্তানের নাগরিক ছিলেন।
হোসেইনির বিরুদ্ধে অস্ত্র উঁচিয়ে আতঙ্ক তৈরি, ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি এবং জনশৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে দেশের নিরাপত্তাসহ সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে আইএইচআর জানিয়েছে, হোসেইনির বিরুদ্ধে মূলত এক পুলিশ সদস্যকে লাথি মারার অভিযোগ ছিল। সংস্থাটির দাবি, কর্তৃপক্ষ এমন কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে হোসেইনির কোনো পদক্ষেপে ওই পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছিল।
এই মৃত্যুদণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে আইএইচআরের পরিচালক মাহমুদ আমিরে-মোকাদ্দাম বলেন, "এই ঘটনাটি একটি সম্মিলিত শাস্তির উদাহরণ এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পক্ষ থেকে মৃত্যুদণ্ডের যথেচ্ছ ব্যবহারের স্পষ্ট প্রমাণ।"
চলতি বছরের জানুয়ারিতে চরম রূপ নেওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় ইসফাহানে চার পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। সেই মামলায় হোসেইনি হলেন পঞ্চম ব্যক্তি, যার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো। এর আগে গত জুলাই মাসে একই মামলায় গোল মোহাম্মদ মোহাম্মদী নামে আরেক আফগান নাগরিককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দ্বিতীয় আফগান নাগরিক হলেন হোসেইনি। মানবাধিকার সংস্থা আইএইচআর জানিয়েছে, এই মামলায় তেহরান এ পর্যন্ত অন্তত ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।



























