সূর্যের চেয়ে ৭ গুণ উত্তপ্ত ‘কৃত্রিম সূর্য’ তৈরিতে সফল চীন

- আপডেট সময় : ০২:৪২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বের বৃহত্তম ৫৮২ টন ওজনের ফিউশন চুম্বকের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করে ‘কৃত্রিম সূর্য’ তৈরির পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে চীন। চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব প্লাজমা ফিজিকস এই বিশাল কাঠামোটি তৈরি করেছে, যা পরিচ্ছন্ন ও বিপুল শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রক্রিয়ার একটি অপরিহার্য উপাদান। বেইজিংয়ের লক্ষ্য রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে ফিউশন শক্তি ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা।
সদ্য পরীক্ষিত এই কাঠামোটি ইংরেজি ‘ডি’ আকৃতির একটি সুপারকন্ডাক্টিং বা অতিপরিবাহী চুম্বক। ২১ মিটার দীর্ঘ ও ১২ মিটার প্রস্থের এই চুম্বকটিকে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফিউশন চুল্লির স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বেইজিং জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ নিজস্ব কাঁচামাল ও উৎপাদন সক্ষমতায় তৈরি করা হয়েছে, যা বিদেশি সরঞ্জামের ওপর দেশটির নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। এটি আন্তর্জাতিক থার্মোনিউক্লিয়ার এক্সপেরিমেন্টাল রিঅ্যাক্টর (আইটিইআর) প্রকল্পের চুম্বকগুলোর তুলনায় ১ দশমিক ৩ গুণ বড় এবং প্রায় তিন গুণ বেশি শক্তি সঞ্চয়ে সক্ষম।
এই শক্তিশালী চুম্বকটির মূল কাজ হলো একটি চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি করা, যা ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উত্তপ্ত প্লাজমাকে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে রাখতে পারবে। উল্লেখ্য, সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রা প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডিগ্রি সেলসিয়াস, অর্থাৎ চীনের এই কৃত্রিম সূর্যের তাপমাত্রা আমাদের সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রার চেয়ে প্রায় ৭ গুণ বেশি হবে।
কৃত্রিম সূর্য মূলত একটি পারমাণবিক চুল্লি, যা সূর্যের শক্তির উৎস ফিউশন প্রক্রিয়াকে অনুকরণ করে দীর্ঘমেয়াদে বিপুল শক্তি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছে। গত ৭০ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা এই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছেন। একটি ফিউশন যন্ত্র থেকে সফলভাবে বিদ্যুৎ পেতে হলে ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা অর্জন, দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা এবং পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
ইনস্টিটিউট অব প্লাজমা ফিজিকসের পরিচালক সং ইউনতাও জানান, ফিউশন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে প্লাজমার স্বনির্ভর চক্র তৈরি করা প্রয়োজন, যার জন্য যন্ত্রটিকে হাজার হাজার সেকেন্ড ধরে উচ্চ দক্ষতার সঙ্গে সচল রাখতে হবে। চীনের এই ‘ইস্ট’ (EAST) প্রকল্পটি ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে এবং তখন থেকেই এটি দেশি-বিদেশি বিজ্ঞানীদের জন্য একটি উন্মুক্ত গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। একই বছর চীন আন্তর্জাতিক থার্মোনিউক্লিয়ার এক্সপেরিমেন্টাল রিঅ্যাক্টর কর্মসূচিতে সপ্তম সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়।




























