স্বাস্থ্য খাতে ১৬ হাজার কোটি টাকার দরপত্র আসছে, কেনা হবে রোবটিক সার্জারি মেশিন
- আপডেট সময় : ১০:৩৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

দেশের স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করে সাধারণ মানুষের কাছে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি দরপত্র আহ্বান করা হবে। একই সঙ্গে দেশে জটিল অস্ত্রোপচারের সুবিধার্থে পাঁচটি রোবটিক সার্জারি মেশিন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনের পর এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য খাতে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা এক দিন বা এক মাসে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ঘাটতি ও সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। রোবটিক সার্জারি মেশিন ক্রয়ের পাশাপাশি ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় রেডিওথেরাপি মেশিন সরবরাহ এবং হাসপাতালগুলোর সার্বিক অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম উন্নয়নের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
পরিদর্শনকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় দেশে চিকিৎসকের সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। একজন চিকিৎসকের পক্ষে দিনে ৫০ জন রোগী দেখা সম্ভব হলেও সেখানে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী দেখতে হচ্ছে। এর ফলে চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং মেধার সঠিক প্রয়োগ ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসক সংকটের এই বাস্তবতার মধ্যেও চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি, ডিউটিতে ফাঁকি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি। হাসপাতালের কর্মস্থলে অনুপস্থিতির প্রমাণ মিললে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমনকি পরিদর্শনকালে কয়েকজন চিকিৎসকের অনুপস্থিতি পেয়ে তাদের দায়িত্ব পালনের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালনার ক্ষেত্রেও কড়া হুঁশিয়ারি দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটার পরিধির মধ্যে কোনো নতুন বেসরকারি ক্লিনিক স্থাপন করতে দেওয়া হবে না। আর যেসব বেসরকারি ক্লিনিক চালু রয়েছে, সেগুলো সরকারের নির্ধারিত শর্ত মেনে চলছে কি না তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো ক্লিনিকে মানসম্মত প্রসবকক্ষ না থাকলে, চিকিৎসায় গাফিলতি দেখা দিলে বা অবহেলার কারণে রোগীর মৃত্যু ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হবে।
শনিবার সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার আগে ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নানা বিশৃঙ্খলা দেখতে পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে দুই দিনের মধ্যে সব শৌচাগার সংস্কার ও পরিষ্কার করার পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতের নির্দেশ দেন। অপরদিকে, তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনো অন্তর্বিভাগ কার্যক্রম চালু না থাকায় আগামী সপ্তাহের মধ্যে সেখানে চিকিৎসক পদায়ন করে ভর্তি সেবা চালু করার কথা জানান।
উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি করা হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর জেলা ও আশপাশের অঞ্চলের রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে ডায়ালাইসিস, ফিজিওথেরাপি, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুদের চিকিৎসায় পৃথক শয্যার ব্যবস্থা থাকবে।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘাটতি পূরণে সরকারের একাধিক নিয়োগ পরিকল্পনার কথা জানান সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। প্রসূতিদের স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়াতে ও মাতৃস্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও পাঁচ হাজার নতুন চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পুরনো কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে 'ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টার' বা পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন, ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ডা. মো. জাকীউল ইসলাম এবং ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




























