বিশ্বে প্রথম সাপের শরীরে ক্যান্সারের সফল ইলেকট্রোকেমোথেরাপি
- আপডেট সময় : ০৭:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাজ্যের চেস্টার চিড়িয়াখানায় বসবাসরত ২৩ বছর বয়সী একটি রেটিকুলেটেড অজগরের শরীরে প্রথমবারের মতো ইলেকট্রোকেমোথেরাপি প্রয়োগ করে ক্যান্সার চিকিৎসা সম্পন্ন করেছেন চিকিৎসকরা। ‘জোডি ফস্টার’ নামের ১৫ ফুট (প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিটার) লম্বা এবং ৫০ কেজি ওজনের এই সাপটির চোয়ালে ফাইব্রোসারকোমা নামের একটি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার শনাক্ত হয়েছিল। হলিউড অভিনেত্রী জোডি ফস্টারের নামানুসারে রাখা এই অজগরটি সম্প্রতি খাবার গ্রহণে অনীহা এবং আবাসস্থলে নিষ্ক্রিয়তা প্রদর্শন করলে বিষয়টি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
প্রাথমিকভাবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারটি অপসারণ করা হলেও তা পুনরায় ফিরে আসে এবং চোয়ালের হাড়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এতে সাপটির জীবন হুমকির মুখে পড়ে এবং খাবার গ্রহণ করা কঠিন হয়ে ওঠে। সাপটির আকার বিশাল হওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য দুটি অপারেশন টেবিল পাশাপাশি জুড়ে একটি বড় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়, যার আকার প্রায় একটি ডাবল বেডের সমান। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজের আবাসস্থলেই সাপটিকে অচেতন করে সতর্কতার সঙ্গে চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি সেন্টারে নেওয়া হয়।
সেখানে প্রায় ৯০ মিনিট ধরে অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ইয়ান অ্যাশপোল। তিনি প্রথমে টিউমার ও আক্রান্ত চোয়ালের হাড়ের একটি অংশ অপসারণ করেন। এরপর অবশিষ্ট ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে প্রয়োগ করা হয় ইলেকট্রোকেমোথেরাপি। এই পদ্ধতিতে ব্লিওমাইসিন নামের একটি ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধের সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক পালস ব্যবহার করা হয়। টিউমারের নির্দিষ্ট স্থানে বৈদ্যুতিক পালস দেওয়ার ফলে ক্যান্সার কোষের আবরণ সাময়িকভাবে বেশি ভেদ্য হয়ে যায়, যা ওষুধটিকে কোষের ভেতরে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।
লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট প্রাণীর ক্লিনিক্যাল সায়েন্স বিভাগের হোসে আলভারেজ পিকর্নেল জানান, ইলেকট্রোকেমোথেরাপি একটি উদীয়মান চিকিৎসা পদ্ধতি এবং সাপের ক্ষেত্রে এটিই প্রথম প্রয়োগ। চিকিৎসার কয়েক মাস পর জোডির অবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। সে এখন স্বাভাবিকভাবে খাবার খাচ্ছে এবং আগের মতোই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চিড়িয়াখানার কর্মীরা জানিয়েছেন, জোডি এখন খাবারের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং কোনো সমস্যা ছাড়াই তা গিলে ফেলছে। সর্বশেষ পরীক্ষায়ও জোডির শরীরে ক্যান্সার ফিরে আসার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের মতে, এই সাফল্য কেবল একটি প্রাণীকে বাঁচায়নি, বরং ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের জন্যও নতুন পথ তৈরি করেছে। এই চিকিৎসা পদ্ধতির বিস্তারিত শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে, যাতে বিশ্বের অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা পদ্ধতিটি সম্পর্কে জানতে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত করতে পারেন।




























