৪৭তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ইমতিয়াজের সাফল্যের গল্প

- আপডেট সময় : ০১:৪৯:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

৪৭তম বিসিএস পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার খবরটি পাওয়ার মুহূর্তটি ছিল ইমতিয়াজ আহমেদ জুলিয়ানের জন্য এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থী জানান, রোল নম্বর মিলিয়ে দেখার পর কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে ছিলেন, তারপর রুমমেট ও বন্ধুদের জানানোর পর বাবা-মাকে সুখবরটি দেন। বগুড়ার বাসিন্দা ইমতিয়াজের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং মা গৃহিণী। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ইমতিয়াজ, যার বড় দুই ভাইয়ের একজন বিচারক এবং অন্যজন নন-ক্যাডার কর্মকর্তা।
ইমতিয়াজের শিক্ষাজীবন শুরু হয় বগুড়ার মুলতানি পারভীন শাহজাহান তালুকদার বিদ্যালয় থেকে, যেখান থেকে তিনি ২০১৭ সালে এসএসসি পাস করেন। ২০১৯ সালে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। অনার্স ফাইনাল ইয়ারে ওঠার পর থেকে তিনি বিসিএস নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন। পরিবারের সদস্যদের সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দেখে অনুপ্রাণিত ইমতিয়াজ বিসিএসকেই নিজের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থেকেই পূর্ণোদ্যমে প্রস্তুতি শুরু করেন।
পড়াশোনার কৌশল সম্পর্কে ইমতিয়াজ বলেন, তিনি কখনোই গৎবাঁধা রুটিন মেনে চলেননি, তবে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, এক দিন বেশি পড়ার চেয়ে প্রতিদিন নিয়মিত পড়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সাধারণত প্রতিদিন গড়ে ছয় থেকে আট ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন, তবে পড়ার আগ্রহ বা পরীক্ষার সময় তা ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছাত। সাধারণত দুপুর থেকে রাত ৩টা বা ৪টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই তার পড়াশোনা চলত।
বিসিএস যাত্রার কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে ইমতিয়াজ জানান, মাস্টার্স পরীক্ষা ও ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার রুটিন একই দিনে পড়ায় তাকে দুটি কোর্সের পরীক্ষা বাদ দিয়ে বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছিল। এছাড়া ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে অকৃতকার্য হওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সেই সময়ে তার বাবা-মায়ের অকুন্ঠ বিশ্বাস ও সমর্থন তাকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। তারা কখনোই তাকে দোষারোপ করেননি, বরং সবসময় সাহস দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের পরিবেশ তার প্রস্তুতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি মনে করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে বিসিএস প্রস্তুতির যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা তাকে অনুপ্রাণিত করত এবং তিনি চেয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও এমন পরিবেশ তৈরি হোক। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বৈধ বরাদ্দের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ওঠার পর তিনি পড়াশোনার জন্য মেসের চেয়ে অনেক বেশি উপযোগী পরিবেশ পান। এছাড়া রুমমেট, বন্ধু এবং একই বিভাগের সিনিয়রদের কাছ থেকেও তিনি সবসময় উৎসাহ পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি সিনিয়র অফিসার ও অফিসার (জেনারেল) পদের নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন।




























