ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টঙ্গীতে এসেনশিয়াল ড্রাগসের কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ২১ ইউনিট ভারতে ককরোচ পার্টির দুই নেতা পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে ট্রাম্পকে ‘স্বামী’ সম্বোধন করে বিব্রত নতুন প্রেস সচিব কেটি জ্যাকারিয়া তারেক রহমান সরকারের মেয়াদের মাঝামাঝি: সম্ভাবনা ও নীতিগত অগ্রাধিকার তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষার আহ্বান প্রেসিডেন্টের ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনায় আসছে পরিবর্তন ইউনূসকে হেনস্তা কেবল শুরু, মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতার টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১৪ ইউনিট দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসে বিশেষ অবদান, রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেলেন মিরসরাইয়ের উম্মে হাবিবা টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১২ ইউনিট

খেলাপি ঋণের বিশ্ব তালিকায় শীর্ষে বাংলাদেশ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৪২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হারে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করেছে, তার প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি হয়ে পড়েছে। খেলাপি ঋণের এই উচ্চ হারের দিক থেকে বাংলাদেশের পরেই রয়েছে চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা। এক সময় যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন এই তালিকায় সবার উপরে থাকলেও, ঋণ আদায়, অবলোপন এবং নতুন ভালো মানের ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি এই হার কমিয়ে তালিকা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। বিপরীতে, বাংলাদেশে আগে আড়ালে থাকা অনিয়মিত ও বেনামি ঋণগুলো বর্তমানে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় প্রকৃত চিত্রটি সামনে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাস শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মাত্র তিন মাস আগে, মার্চ শেষে এই অংক ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মাত্র এক প্রান্তিকের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। এর আগে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খেলাপি ঋণের যে বড় অংক এখন প্রকাশ্যে এসেছে, তার পুরোটাই নতুন করে তৈরি হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা, ঋণ পুনঃতফসিল এবং হিসাবের মারপ্যাঁচে অনেক সমস্যাগ্রস্ত ঋণকে নিয়মিত হিসেবে দেখানো হয়েছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকের সম্পদের মান যাচাই এবং দেশি-বিদেশি নিরীক্ষা শুরু হলে অনিয়ম, জালিয়াতি ও বেনামি ঋণের তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। বর্তমানে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় আছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক, যাদের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি খেলাপি। এছাড়া আরও বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের মোট ঋণের অর্ধেকের বেশি খেলাপি হয়ে পড়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঋণ বিতরণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায়িক মন্দা এবং জ্বালানি সংকটকে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই চাপ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশন সংরক্ষণের নিয়মকে আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, দুর্বল ব্যাংকগুলোর পর্ষদ পুনর্গঠন এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা অন্যতম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে যে, কঠোর ঋণ শ্রেণিকরণ ও সম্পদের মান যাচাইয়ের ফলে ভবিষ্যতে আরও খেলাপি ঋণ শনাক্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাগজে-কলমে অবলোপন বা পুনঃতফসিল করে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমানো গেলেও, প্রকৃত পাওনা আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

খেলাপি ঋণের বিশ্ব তালিকায় শীর্ষে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৬:৪২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হারে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করেছে, তার প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি হয়ে পড়েছে। খেলাপি ঋণের এই উচ্চ হারের দিক থেকে বাংলাদেশের পরেই রয়েছে চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা। এক সময় যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন এই তালিকায় সবার উপরে থাকলেও, ঋণ আদায়, অবলোপন এবং নতুন ভালো মানের ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি এই হার কমিয়ে তালিকা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। বিপরীতে, বাংলাদেশে আগে আড়ালে থাকা অনিয়মিত ও বেনামি ঋণগুলো বর্তমানে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় প্রকৃত চিত্রটি সামনে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাস শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মাত্র তিন মাস আগে, মার্চ শেষে এই অংক ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মাত্র এক প্রান্তিকের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। এর আগে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খেলাপি ঋণের যে বড় অংক এখন প্রকাশ্যে এসেছে, তার পুরোটাই নতুন করে তৈরি হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা, ঋণ পুনঃতফসিল এবং হিসাবের মারপ্যাঁচে অনেক সমস্যাগ্রস্ত ঋণকে নিয়মিত হিসেবে দেখানো হয়েছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকের সম্পদের মান যাচাই এবং দেশি-বিদেশি নিরীক্ষা শুরু হলে অনিয়ম, জালিয়াতি ও বেনামি ঋণের তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। বর্তমানে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় আছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক, যাদের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি খেলাপি। এছাড়া আরও বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের মোট ঋণের অর্ধেকের বেশি খেলাপি হয়ে পড়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঋণ বিতরণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায়িক মন্দা এবং জ্বালানি সংকটকে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই চাপ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশন সংরক্ষণের নিয়মকে আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, দুর্বল ব্যাংকগুলোর পর্ষদ পুনর্গঠন এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা অন্যতম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে যে, কঠোর ঋণ শ্রেণিকরণ ও সম্পদের মান যাচাইয়ের ফলে ভবিষ্যতে আরও খেলাপি ঋণ শনাক্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাগজে-কলমে অবলোপন বা পুনঃতফসিল করে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমানো গেলেও, প্রকৃত পাওনা আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh