নিউমুরিং টার্মিনাল নিয়ে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলা সস্তা ও অমূলক: বাণিজ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৪:২৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার চুক্তি নিয়ে সমালোচনাকে ‘সস্তা ও অমূলক’ বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তি এবং এতে বন্দরে কর্মরত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারাবেন না। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এই চুক্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১৫ বছর মেয়াদি এই কনসেশন চুক্তি সই হয়। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ চাইলে চুক্তিটি নবায়ন করতে পারবে, অন্যথায় এর অবসান ঘটাতে পারবে। টার্মিনালের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়লে কর্মীদের পারিশ্রমিক আরও বাড়বে বলে সরকার নিশ্চিত হয়েছে। তাই এই চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলে আখ্যা দেওয়া ভিত্তিহীন ও সস্তা রাজনৈতিক বক্তব্য ছাড়া আর কিছু নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির অবস্থান পুনরুদ্ধারের বিষয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক বাজারে চীন দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশেষ মুক্তবাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার কারণে ভিয়েতনাম কখনো কখনো বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে যায়। তবে বাংলাদেশ আবারও নিজের অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। বিদেশি ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যয় অন্যান্য দেশের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নামিয়ে আনা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সিলেট নগরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওর্য়াডে মোট সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে সাড়ে ৪০০ কিলোমিটার সড়কের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং বাকি রয়েছে ৩৫০ কিলোমিটার। তিনি বলেন, গত ৫৫ বছরে যে পরিমাণ সড়ক নির্মিত হয়েছে, বাকি কাজ শেষ করতে আরও ১১০ বছর লাগবে না। আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে অবশিষ্ট সড়কগুলো নির্মাণের জন্য সরকার একটি বড় প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজের পাশে আরেকটি দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে সিটি করপোরেশন, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। অনুষ্ঠান শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেট নগরের ৮৫টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৩৪ লাখ টাকার অনুদান তুলে দেন।



























