যমুনার চরে মাষকলাই চাষে স্বপ্ন বুনছেন সিরাজগঞ্জের কৃষকেরা
- আপডেট সময় : ০১:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীবিধৌত চরাঞ্চলের কৃষকেরা এখন মাষকলাই চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর ভালো লাভ হওয়ায় এবার এই ফসল চাষে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। প্রতিবছর বন্যায় কাজিপুর উপজেলার হাজার হাজার একর আবাদি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে কৃষি বিভাগের পরামর্শে চরের উর্বর পলি মাটিতে আধুনিক পদ্ধতিতে মাষকলাই চাষ শুরু করেছেন তারা। যমুনার পূর্ব পাড়ে এখন দিগন্তজোড়া সবুজ মাষকলাইয়ের খেত।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলায় ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে মাষকলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে এই ডালজাতীয় ফসলের চাষ সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণত বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর জুলাই ও আগস্ট মাসে চরাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নে মাষকলাইয়ের বীজ বপন করা হয়।
মনসুরনগর ইউনিয়নের কৃষক সবুর মিয়া জানান, তিনি এবার দুই বিঘা জমিতে মাষকলাই চাষ করেছেন। এই ফসলে সার ও পানির খরচ অনেক কম, অথচ লাভ বেশি পাওয়া যায়। ছরগিরিশ এলাকার চাষি হান্নান নিজের তিন বিঘা জমির পাশাপাশি আরও এক বিঘা বর্গা নিয়ে মাষকলাই আবাদ করেছেন। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন বলে তিনি জানান।
তেকানী ইউনিয়নের আরেক চাষি জামাল উদ্দিন জানান, বন্যার পর জমি পতিত না রেখে মাষকলাই চাষ করলে বাড়তি আয় হয়। এছাড়া মাষকলাই চাষের পর ওই জমিতে ধান রোপণ করলে ফলন অনেক ভালো হয়। প্রতি বিঘায় সাধারণত ৫ থেকে ৭ মণ পর্যন্ত মাষকলাই উৎপাদিত হয়।
কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের লাভবান করতে কৃষি বিভাগ সবসময় পাশে রয়েছে। মাষকলাইয়ের উৎপাদন বাড়াতে সরকারিভাবে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ, কে, এম, মনজুরে মাওলা জানান, কাজিপুর, চৌহালী ও সিরাজগঞ্জ সদরসহ পুরো জেলায় এবার মাষকলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর। কৃষকদের সরকারি প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে।
ছরগিরিশের চাষি হান্নান বলেন, নিজের তিন বিঘার পাশাপাশি আরও ১ বিঘা বর্গা নিয়ে মাশকলাই লাগিয়েছি।
প্রতি বিঘায় ৫-৭ মন পর্যন্ত মাশকলাই পাওয়া যায়।




























