ঢাকা ০৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় জনপদে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও জনদুর্ভোগ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সীতাকুণ্ড উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সুপেয় পানির সহজলভ্যতা। বঙ্গোপসাগরের নৈকট্য এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে এখানকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর মারাত্মকভাবে লবণাক্ত হয়ে পড়েছে। একসময় বাড়ির আঙিনায় বা সামান্য দূরে নলকূপ বসালেই যে স্বচ্ছ মিষ্টি পানি পাওয়া যেত, তা এখন শুধুই অতীত স্মৃতি। শতবর্ষী কূপ, সাধারণ নলকূপ আর পাম্পের পানির পরিচিত মিষ্টি স্বাদ আজ চরম তিক্ততায় রূপ নিয়েছে।

বাঁশবাড়িয়া, মুরাদপুর, সৈয়দপুর ও কুমিরা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পানির এই সংকট মানুষের দৈনন্দিন রুটিন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। মাটির গভীর থেকে পানি তোলা ছাড়া এখন আর ব্যবহারযোগ্য পানি পাওয়ার উপায় নেই। সাধারণ দরিদ্র মানুষের পক্ষে গভীর নলকূপ বসানো বা ব্যয়বহুল ফিল্টারিং যন্ত্র কেনা অসম্ভব হওয়ায়, তাদের এখন বহুদূর থেকে হেঁটে বা রিকশায় জারের পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইউসুফ আলী জানান, আগে সহজেই টিউবওয়েল টিপে তৃষ্ণা মেটানো গেলেও এখন এক ফোঁটা পানি মুখে দিলেই সমুদ্রের লবণের স্বাদ পাওয়া যায়। প্রতিদিন খাওয়ার পানি সংগ্রহের জন্য তাকে দুই-তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়।

লবণাক্ত পানির এই আগ্রাসন কেবল মানুষের তৃষ্ণা মেটানোর সংকটেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্য ও কৃষিতেও। রান্নার কাজেও কুয়ো বা টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এছাড়া থালাবাসন ধোয়া বা গোসলের জন্য ব্যবহৃত এই লবণাক্ত পানি চর্মরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি জটিলতার ঝুঁকিও দিন দিন বাড়ছে। পাশাপাশি, গবাদিপশু ও কৃষিকাজেও লবণাক্ত পানির বিরূপ প্রভাবে ফসলি জমির উর্বরতা শক্তি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সংকট নিরসনে বিভিন্ন মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে গভীর নলকূপ স্থাপন এবং সোলার প্যানেলভিত্তিক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পাশাপাশি এখনই জরুরি ভিত্তিতে সুপেয় পানির বিকল্প ব্যবস্থা না করলে এই জনপদ বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় জনপদে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও জনদুর্ভোগ

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সীতাকুণ্ড উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সুপেয় পানির সহজলভ্যতা। বঙ্গোপসাগরের নৈকট্য এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে এখানকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর মারাত্মকভাবে লবণাক্ত হয়ে পড়েছে। একসময় বাড়ির আঙিনায় বা সামান্য দূরে নলকূপ বসালেই যে স্বচ্ছ মিষ্টি পানি পাওয়া যেত, তা এখন শুধুই অতীত স্মৃতি। শতবর্ষী কূপ, সাধারণ নলকূপ আর পাম্পের পানির পরিচিত মিষ্টি স্বাদ আজ চরম তিক্ততায় রূপ নিয়েছে।

বাঁশবাড়িয়া, মুরাদপুর, সৈয়দপুর ও কুমিরা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পানির এই সংকট মানুষের দৈনন্দিন রুটিন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। মাটির গভীর থেকে পানি তোলা ছাড়া এখন আর ব্যবহারযোগ্য পানি পাওয়ার উপায় নেই। সাধারণ দরিদ্র মানুষের পক্ষে গভীর নলকূপ বসানো বা ব্যয়বহুল ফিল্টারিং যন্ত্র কেনা অসম্ভব হওয়ায়, তাদের এখন বহুদূর থেকে হেঁটে বা রিকশায় জারের পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইউসুফ আলী জানান, আগে সহজেই টিউবওয়েল টিপে তৃষ্ণা মেটানো গেলেও এখন এক ফোঁটা পানি মুখে দিলেই সমুদ্রের লবণের স্বাদ পাওয়া যায়। প্রতিদিন খাওয়ার পানি সংগ্রহের জন্য তাকে দুই-তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়।

লবণাক্ত পানির এই আগ্রাসন কেবল মানুষের তৃষ্ণা মেটানোর সংকটেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্য ও কৃষিতেও। রান্নার কাজেও কুয়ো বা টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এছাড়া থালাবাসন ধোয়া বা গোসলের জন্য ব্যবহৃত এই লবণাক্ত পানি চর্মরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি জটিলতার ঝুঁকিও দিন দিন বাড়ছে। পাশাপাশি, গবাদিপশু ও কৃষিকাজেও লবণাক্ত পানির বিরূপ প্রভাবে ফসলি জমির উর্বরতা শক্তি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সংকট নিরসনে বিভিন্ন মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে গভীর নলকূপ স্থাপন এবং সোলার প্যানেলভিত্তিক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পাশাপাশি এখনই জরুরি ভিত্তিতে সুপেয় পানির বিকল্প ব্যবস্থা না করলে এই জনপদ বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin