ঢাকা ০২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রেসিডেন্ট বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, কারণ জানাল রয়টার্স টেকসই উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান ববি হাজ্জাজের স্কুলে ঢুকে ছাত্রকে মারধর, ছাত্রদল সভাপতি আজীবন বহিষ্কার আফগানিস্তানের ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলা দাউদকান্দি থানায় ১৭ কিশোরের পালানোর অভিযোগ, অস্বীকার পুলিশের বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করল বিমান বাংলাদেশ গ্রাম ও শহর: জীবনযাত্রার ভিন্নতা, শিশুদের স্বাস্থ্যে এগিয়ে গ্রাম উখিয়ায় বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি, দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার আজ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস

ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, শোকজ পেলেন গোয়ালন্দ নির্বাচন কর্মকর্তা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমের বিরুদ্ধে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তবে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও খবিরুল আলম বর্তমানে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

গত ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে বসে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন খবিরুল আলম। রাসেল মোল্লা নামের ওই সেবাগ্রহীতা দাবি করেছেন, তিনি একজন বাহরাইনপ্রবাসী এবং নতুন ভোটার হওয়ার জন্য কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। রাসেলের ভাষ্যমতে, কোনো ভোটার পরিচয়পত্র না থাকায় তিনি ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেন, কিন্তু নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলম কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে তার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত অনেক অনুরোধের পর ২ হাজার টাকা দিলে তার কাজ সম্পন্ন করা হয়। রাসেল আরও জানান, তিনি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত থাকা সত্ত্বেও তিন-চার দিন তাকে কার্যালয়ে ঘোরানো হয়েছিল।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, টাকা ছাড়া সেখানে কোনো সেবা পাওয়া যায় না এবং টাকা না দিলে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়। এছাড়া দালালচক্রের মাধ্যমে টাকা দিলে দ্রুত সেবা পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় কিছু কম্পিউটার দোকানের মালিকের বিরুদ্ধে এই দালালচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে, যেখানে ভোটার আইডি সংশোধন বা নতুন ভোটার হওয়ার জন্য ৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে খবিরুল আলম জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। রাজবাড়ী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানান, ভিডিওটি দেখার পর গত বৃহস্পতিবারই খবিরুল আলমকে শোকজ করা হয়েছে এবং আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কারণ নির্বাচন অফিস দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

২০১৩ সালে জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে তিনি বিদেশে যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ভোটার পরিচয়পত্রের কাজ করিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, শোকজ পেলেন গোয়ালন্দ নির্বাচন কর্মকর্তা

আপডেট সময় : ০৫:৫৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমের বিরুদ্ধে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তবে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও খবিরুল আলম বর্তমানে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

গত ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে বসে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন খবিরুল আলম। রাসেল মোল্লা নামের ওই সেবাগ্রহীতা দাবি করেছেন, তিনি একজন বাহরাইনপ্রবাসী এবং নতুন ভোটার হওয়ার জন্য কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। রাসেলের ভাষ্যমতে, কোনো ভোটার পরিচয়পত্র না থাকায় তিনি ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেন, কিন্তু নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলম কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে তার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত অনেক অনুরোধের পর ২ হাজার টাকা দিলে তার কাজ সম্পন্ন করা হয়। রাসেল আরও জানান, তিনি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত থাকা সত্ত্বেও তিন-চার দিন তাকে কার্যালয়ে ঘোরানো হয়েছিল।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, টাকা ছাড়া সেখানে কোনো সেবা পাওয়া যায় না এবং টাকা না দিলে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়। এছাড়া দালালচক্রের মাধ্যমে টাকা দিলে দ্রুত সেবা পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় কিছু কম্পিউটার দোকানের মালিকের বিরুদ্ধে এই দালালচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে, যেখানে ভোটার আইডি সংশোধন বা নতুন ভোটার হওয়ার জন্য ৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে খবিরুল আলম জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। রাজবাড়ী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানান, ভিডিওটি দেখার পর গত বৃহস্পতিবারই খবিরুল আলমকে শোকজ করা হয়েছে এবং আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কারণ নির্বাচন অফিস দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

২০১৩ সালে জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে তিনি বিদেশে যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ভোটার পরিচয়পত্রের কাজ করিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh