শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসক ও জনবল সংকটে চরম ভোগান্তি
- আপডেট সময় : ০২:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও কারিগরি জনবলের তীব্র সংকটে চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জেলার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের প্রধান এই আশ্রয়স্থলে প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় ৪৫০ জন রোগী ভর্তি থাকলেও, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালটিতে ৭২টি অনুমোদিত চিকিৎসকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২২ জন।
কাগজে-কলমে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও, এখনো ১০০ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী এর কার্যক্রম চলছে। কর্মরত চিকিৎসকদের অনেকেই প্রেষণে বা পদোন্নতি নিয়ে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করায় প্রকৃত চিকিৎসকের সংখ্যা আরও কম। বিশেষ করে শিশু, নাক-কান-গলা, চক্ষু ও হৃদ্রোগ বিভাগে কোনো কনসালট্যান্ট বা চিকিৎসক নেই। ১১টি সিনিয়র কনসালট্যান্টের পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন। ফলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগীদের বাধ্য হয়ে শরীয়তপুরের বাইরে যেতে হচ্ছে।
নার্স ও কারিগরি জনবলের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। ৯২টি অনুমোদিত নার্স পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৫৯ জন, যাদের মধ্যে অনেকে মাতৃত্বকালীন বা অবসর-পরবর্তী ছুটিতে থাকায় বাস্তবে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষা এখন রোগীদের নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা। কহিনুর বেগম নামের এক রোগী জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. ইকবাল হোসেন ও মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিতু জানিয়েছেন, রোগীর বিপুল চাপের তুলনায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হিমশিম খাচ্ছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মাদ আকরাম এলাহী জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও সমস্যার সমাধান এখনো মেলেনি। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হোক, যাতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ভোগান্তি দূর হয় এবং সরকারি হাসপাতালের ওপর আস্থা বৃদ্ধি পায়।


























