ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

দশমিনায় তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন ২০ কবর

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:১৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে হাজিরহাট লঞ্চঘাটের পশ্চিম-উত্তর পাশে শুরু হওয়া এই ভাঙনে নদীতীরবর্তী সড়কের একটি অংশ ও প্রায় ২০টি কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙনের কবলে রয়েছে হাজিরহাট জামে মসজিদ, স্থানীয় বাজার ও বেশ কিছু বসতবাড়ি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা এবং দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম। সরেজমিনে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ফেলা শতাধিক জিওব্যাগ তীব্র স্রোতের টানে নদীতে তলিয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় পাকা সড়কের কার্পেটিং ও মাটির অংশ খসে পড়ছে, যা পুরো এলাকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নিজামুদ্দিন জানান, তার বাবার কবরসহ পারিবারিক কবরস্থানের অনেক সমাধি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে তিনি মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। স্থানীয় গৃহবধূরাও তাদের শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর আশঙ্কায় চরম আতঙ্ক ও শঙ্কার মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মসজিদ, বাজার এবং আশপাশের বসতবাড়িও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এছাড়া সড়কের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে তেঁতুলিয়ার জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ার ভয়ও তৈরি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদ হাসান মৃধা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সরঞ্জামসহ ভাঙন রোধে কাজ শুরু করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদের সাইক্লোন সেন্টারে তাদের আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। স্থানীয়রা এখন জিওব্যাগ ফেলার পাশাপাশি একটি টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

দশমিনায় তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন ২০ কবর

আপডেট সময় : ০১:১৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে হাজিরহাট লঞ্চঘাটের পশ্চিম-উত্তর পাশে শুরু হওয়া এই ভাঙনে নদীতীরবর্তী সড়কের একটি অংশ ও প্রায় ২০টি কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙনের কবলে রয়েছে হাজিরহাট জামে মসজিদ, স্থানীয় বাজার ও বেশ কিছু বসতবাড়ি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা এবং দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম। সরেজমিনে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ফেলা শতাধিক জিওব্যাগ তীব্র স্রোতের টানে নদীতে তলিয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় পাকা সড়কের কার্পেটিং ও মাটির অংশ খসে পড়ছে, যা পুরো এলাকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নিজামুদ্দিন জানান, তার বাবার কবরসহ পারিবারিক কবরস্থানের অনেক সমাধি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে তিনি মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। স্থানীয় গৃহবধূরাও তাদের শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর আশঙ্কায় চরম আতঙ্ক ও শঙ্কার মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মসজিদ, বাজার এবং আশপাশের বসতবাড়িও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এছাড়া সড়কের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে তেঁতুলিয়ার জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ার ভয়ও তৈরি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদ হাসান মৃধা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সরঞ্জামসহ ভাঙন রোধে কাজ শুরু করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদের সাইক্লোন সেন্টারে তাদের আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। স্থানীয়রা এখন জিওব্যাগ ফেলার পাশাপাশি একটি টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin