নারায়ণগঞ্জে শুভ হত্যা রহস্য উন্মোচন, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩
- আপডেট সময় : ০৬:১৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় শুভ চন্দ্র দাস (৩০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল এবং শুভকে কৌশলে ডেকে এনে গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও মো. সোহান (২৪)। তাঁদের মধ্যে সুমন ও সিয়ামকে গত ৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বন্দর থানা এলাকা থেকে এবং সোহানকে একই রাতে সাড়ে ৩টার দিকে আমলাপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সন্দেহে একটি মোটরসাইকেল এবং তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে ডিবি।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, শুভ চন্দ্র দাসকে হত্যার মূল পরিকল্পনা করেছিলেন অনিক ও সুমন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য শুভরই সহযোগী সোহানকে ব্যবহার করা হয়। মাত্র ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে সোহান শুভকে ঘটনার দিন নির্ধারিত স্থানে ডেকে নিয়ে আসেন। এরপর অনিক ও অহিদের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল শুভর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অনিক ও অহিদ শুভকে লক্ষ্য করে গুলি করেন এবং দলের অন্য সদস্যরা চাকু দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামলের সামনের সড়ক থেকে শুভর গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় শুভর বাবা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর নারায়ণগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় দ্রুততম সময়ে এই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ডিবি। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অনিক, অহিদসহ অন্য আসামিরা এখনো পলাতক রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





























