সেলুন ছেড়ে মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষে মাঈন উদ্দিনের সাফল্য
- আপডেট সময় : ০৩:০১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

একসময় সেলুনের ব্যবসা করতেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বিদ্যাকুট গ্রামের বাসিন্দা মাঈন উদ্দিন। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে মাঠে যাতায়াত করতে করতে কৃষির প্রতি তাঁর এক ধরনের ভালোবাসা তৈরি হয়। প্রায় তিন বছর আগে বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর পরিবারের পুরো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি। তখন সেলুন ব্যবসা ছেড়ে কৃষিকাজকেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন মাঈন উদ্দিন। নিজের জমিতে স্বল্প পরিসরে লাউ, করলা, শিম, বেগুন ও মরিচসহ নানা ধরনের সবজি চাষ করে আসছিলেন তিনি। তবে এবার আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন এই উদ্যমী কৃষক।
চলতি মৌসুমে নবীনগর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের পরামর্শে এবং ‘বি-স্ট্রং’ প্রকল্পের আওতায় প্রথমবারের মতো উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করে মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ শুরু করেন মাঈন উদ্দিন। প্রথমবারেই ভালো ফলন পেয়ে তাঁর মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। মাঈন উদ্দিন জানান, আগে তিনি কখনো এভাবে চাষ করেননি। এবার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে প্রথমবার মালচিং পদ্ধতিতে ‘পার্পল কিং’ জাতের বেগুন চাষ করেছেন। এই পদ্ধতিতে চাষ করার ফলে জমিতে আগাছা অনেক কম হয়েছে এবং মাটির আর্দ্রতাও বেশ ভালো থাকছে। এতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ফলন দুটোই চমৎকার হয়েছে।
বর্তমানে প্রতিদিন নিজের জমি থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কেজি বেগুন তুলছেন মাঈন উদ্দিন। বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারমূল্য ভালো থাকলে কোনো কোনো দিন তিনি ১২০ টাকা কেজি দরেও বেগুন বিক্রি করতে পারছেন। জমিতে যেভাবে বেগুন ধরেছে, তাতে আগামী আরও অন্তত দুই মাস নিয়মিত ফলন পাবেন বলে আশা করছেন এই কৃষক।
মাঈন উদ্দিনের এই উদ্যোগ ও সাফল্য নিয়ে বিদ্যাকুট ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফুরুল্লাহ বলেন, মাঈন উদ্দিন প্রথমবার মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে দারুণ ফলন পেয়েছেন। আমরা নিয়মিত তাঁর জমি পরিদর্শন করছি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন ও আয় বাড়ানো সম্ভব। আশা করা যাচ্ছে, এই মৌসুম শেষে তিনি সব খরচ বাদ দিয়ে ৩ লাখ টাকারও বেশি লাভ করতে পারবেন।
নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মাঈন উদ্দিন মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে ভালো ফলন ও চমৎকার বাজারমূল্য পেয়েছেন। তাঁর এই চোখধাঁধানো সাফল্য দেখে চলতি মৌসুমে এলাকার প্রায় চার বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সেলুন ব্যবসা ছেড়ে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া মাঈন উদ্দিনের এই সফলতা এলাকার অন্য কৃষকদেরও আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদে দারুণভাবে উৎসাহিত করছে। কৃষি বিভাগ আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণে নিয়মিত প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবসের আয়োজন করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাঈন উদ্দিনের মতো কৃষকদের হাত ধরে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে একদিকে যেমন উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে কৃষিকাজে লাভের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।




























